ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকতার মাঠে দিন দিন বাড়ছে জটিলতা। নিজেদের মধ্যে বিভাজন, দলাদলি, পারস্পরিক হয়রানি এবং নানা নামে সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তোলাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন কোনো সাংবাদিকের আগমন অনেক ক্ষেত্রেই কিছু প্রবীণ সাংবাদিক সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না—যার বাস্তব উদাহরণ ভুক্তভোগীরাই।
সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ থেকেই বহু তরুণ এই পেশায় আসছেন। অনেকে ছোটবেলা থেকেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রে সাংবাদিক চরিত্র দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সাংবাদিকতাকে সমাজের দর্পণ হিসেবে দেখার এই মানসিকতা থেকেই তারা পেশাটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। কিন্তু বাস্তবতায় এসে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন।
বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা নানা ধরনের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে পড়ছেন। সাইবার হয়রানি, হুমকি, অপপ্রচার, মামলা-মোকদ্দমার ভয়—এসব কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে।
একদিকে প্রতিটি অঞ্চলে প্রতিদিন সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। বিভিন্ন পেশা ছেড়ে অনেকেই ‘সহজ পেশা’ ভেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে পেশার মান ও নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে, অভিজ্ঞ ও পেশাদার সাংবাদিকরা টিকে থাকার লড়াইয়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন—যা এই সংকটকে আরও গভীর করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি, বিভাজন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। একই এলাকায় একাধিক সাংবাদিক সংগঠন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস পেশাগত ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে সম্মিলিত অবস্থান গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণে প্রয়োজন পেশাগত ঐক্য, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বের পুনরুদ্ধার। স্বচ্ছ মানদণ্ডে সাংবাদিকতা চর্চা, প্রশিক্ষণভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় না হলে মফস্বলে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শূন্যতা সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

