অনুসন্ধান প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওহিদ এর বিরুদ্ধে শিশুদের মারার অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুরা অভিযোগ করে বলেন আমরা পুরাতন বই ফেরত না দেওয়ার কারণে হেড স্যার আমাদের মারছে, শিশুরা বলেন হেড স্যার আমাদের কাছে পুরাতন বই ফেরত চেয়েছিল আমরা প্রথমে ফেরত দেয় নাই,স্কুলে আসলেই স্যার ঢেকে নিয়ে বলে তুরা পুরাতন বই আনছির তখন আমরা বলছি যে স্যার বই তো আনি নাই তখন স্যার আমাদের মারছে, শিশুরা বলেন আমরা কয়েক দিন পরে পুরাতন বই ফেরত দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা বলেন আমাদের কাছ থেকে পুরাতন বই ফেরত নিয়ে হেড স্যার বাঙ্গারীদের কাছে বই বিক্রি করে দিয়েছেন। তারা বলেন কিছু পুরাতন বই বিক্রি করে ঝাড়ু কিনেছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কিছু পুরাতন বই ফেরত নেওয়া হয় পরবর্তীতে যদি কারো বই ছিরে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রে কিছু বই সংগ্রহ করে স্কুলে রাখা হয়। তবে বাসুদেপুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদ অধিকাংশ শিক্ষাথীদের কাছ থেকে পুরাতন বই ফেরত নিয়ে কিছু বই বিক্রি করেছেন আর কিছু পুরাতন বই স্কুলে রেখে দিয়েছেন। বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাড়ির পাশে স্কুলে চাকরি করার সুযোগে তিনি নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে সরকারি পুরাতন বই বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারি নিয়ম অমান্য করে শিক্ষার্থীদের উপর এ কোন ধরনের আচরণ পুরাতন বই যদি কেউ ফেরত দেয় ভালো আর যদি কেউ পুরাতন বই ফেরত না দেয় তাহলে ওই শিক্ষার্থীকে কিছু বলার একতিয়ার রাখেন না, জোর পূর্বক বা বাধ্যতামূলক পুরাতন বই ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের গায়ে হাত দেওয়া সম্পন্ন ভাবে আইন লংঘন করা। প্রধান শিক্ষক মোঃ ওহিদ তিনি তার নিজ এলাকার প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যা মন চায় তাই করেন, একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার উচিত সঠিক ভাবে স্কুল পরিচালনা করা কিন্তু তিনি তার উল্টো দিকে চলছেন, তিনি শিশুদের ভর্তি করে ২০০/ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০/ পর্যন্ত নিয়েছেন আবার পুরাতন বই ফেরত নিয়ে কিছু বই বিক্রি করেছেন। শিক্ষার্থীদের বই ফেরত না দেওয়ার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের তিনি মেরেছেন। দুই-তিন দিন শিক্ষার্থীদের মারছেন বলে তারা জানান।
প্রধান শিক্ষক সরকারি নিয়ম অমান্য করে ভর্তির টাকা নিয়েছেন, এবং শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলছেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ ওহিদ তিনি সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায়, সে সাংবাদিকদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, তিনি বলেন আমার নামে আর প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন না, তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলেছেন।
মনিরামপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আফজাল উর রহমান বলেন এই ধরনের কোন নিয়ম নেই যদি শিক্ষার্থীদের মেরে থাকেন এবং ভর্তি করার জন্য টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে খুবই অন্যায় করেছেন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাসুদেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে, দেখতে চোখ রাখুন।

