নীলফামারী প্রতিনিধি:
আল মিরাজ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উত্তরাঞ্চলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে বুধবার – ০৪/০১/২০২৬ইং তারিখে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমানের আগমনে নারায়ে তাকবীর—আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে গর্জে ওঠে পুরো মাঠ। হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জনসভায় বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। অথচ বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ তিস্তার ন্যায্য পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কৃষি, শিল্প ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই উত্তরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন,
“জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—ইনশাআল্লাহ।”
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে জনতার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলান।
বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলকে আর অবহেলার মানচিত্রে আটকে রাখা যাবে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হতে পারে এ অঞ্চলের মানুষের মুক্তির সোপান। তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চল অবহেলিত থাকলেও জামায়াতে ইসলামী সবসময় এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।
বক্তারা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসভায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের চোখেমুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যাশার ছাপ। অনেকেই বলেন,
“এই প্রথম আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুক দিয়ে বলছে।”
মাঠজুড়ে বারবার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিত হয়। লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

