নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টাঙানো একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি, যে দিনটি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, ভাষার অধিকার এবং গৌরবের প্রতীক সেই দিনকে ঘিরে এমন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা।
অভিযোগ উঠেছে, ব্যানারে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ছবি সংযোজন না করে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের’ শহীদ আবু সাঈদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই অনেকেই এটিকে ইতিহাস বিকৃতি ও চেতনার অবমূল্যায়ন হিসেবে আখ্যা দেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। তবে ব্যানার বিতর্ক সামনে আসতেই জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একুশ মানেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণ; সেখানে ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারও ছবি সংযোজন জাতীয় আবেগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জানা যায়, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। রাষ্ট্রীয় উদ্যাপন অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকে আলোকসজ্জা, ব্যানার টাঙানো, আলোচনা সভা এবং শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনটি পালন করা হয়। তবে এবারের আয়োজনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদের বিরুদ্ধে, কারণ ব্যানারে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’এর শহীদ আবু সাঈদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ছবি না দিয়ে। এতে বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে কানাঘুষা। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের আয়োজনে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও দলিলভিত্তিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থাপন জরুরি। কারন সামান্য অসতর্কতাও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদের আগে আরও বিভিন্ন কারণে সমালোচনার শিকার হয়েছেন, যেমন বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অপারগতা, নির্বাচনকালীন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা, সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। এছাড়াও ২৮তম বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তার জেলা প্রশাসক পদে যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রয়োজনীয় দুই বছরের মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও, ইউএনও ও এডিসি হিসেবে এক বছরের কিছু বেশি অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনের ভিতরে ও বাইরে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহাদাত হোসেন মাসুদ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান যে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জুলাই বিপ্লব ও একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় এক গণমাধ্যম কর্মী প্রশ্ন করেন, একুশে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ছবি ব্যবহার করা যেত কি না। জবাবে জেলা প্রশাসক সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এদিকে অন্যান্য জেলায় এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

