যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সুতিঘাটা এলাকায় নুর পেট্রোল পাম্পের মালিক সরকারি নিয়ম অমান্য করে লাইসেন্স বিহীন টলি ও ড্রামে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকটময় মুহূর্তে তখন যশোরের বেশ কয়েকটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে তারা বিভিন্ন কায়দায় ড্রামে এবং লাইসেন্স বিহীন টলি গাড়িতে তেল দেওয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ট্র্যাক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাম্পের ভিতরে ঢুকে দেখা গেছে ড্রামে তেল বিক্রি করছে অবাদে দেখার কেউ নেই।
ট্র্যাক চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা বলেন আমাদের তেল না দিয়ে পাম্প থেকে ড্রামে তেল বিক্রি করছে, আমরা কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি অথচ আমাদের তেল না দিয়ে ড্রামে তেল দিয়েই যাচ্ছে। চালকরা অভিযোগ করে বলেন আমাদের গাড়ি লাইসেন্স ও সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও আমাদের তেল না দিয়ে ড্রাম যারা নিয়ে আসছে তাদের ডিজেল দিয়ে দিচ্ছে, চালকরা আরো বলেন পাম্প থেকে ট্র্যাকে তেল কম দিয়ে তাদের পরিচিত লোকজনদের ড্রামে তেল দিয়ে দিচ্ছে আর আমাদের দাঁড় করিয়ে রেখেছে।
এলাকার কয়েকজন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা বলেন আমরা ধানে ঠিক মত পানি দিতে পারছি না,তেলের কারণে পাম্পে তেল আনতে গেলেই বলে তেল আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যাবে না। তারা বলেন আমাদের পাম্প থেকে সীমিত তেল দেওয়া হচ্ছে,যে তেল আমাদের দেওয়া হচ্ছে তাতে ধানে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। কৃষকরা জানান আর কিছু দিন পর ধান পাকা শুরু হবে এখনি যদি ধানে পানি না দিতে পারি তাহলে আমাদের ফলন কম হবে,ধান চিটা হয়ে যাবে।
কৃষকরা বলেন আপনারা নিজেরাই দেখে যান কি ভাবে বাহিরের লোকদের ড্রামে তেল দিয়ে দিচ্ছে অথচ আমরা জমিতে ঠিক মতো পানি দিতে পারছি না,তেলের কারণে।
সরকার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তদারকি করার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন, তবে নুর পেট্রোল পাম্পে কাউকে দেখা যায়নি, পাম্পের কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা বলেন এখানেই ছিল আপনারা দেখুন কোথায় আছে।
সাংবাদিকদের সাথে নুর পেট্রোল পাম্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা ড্রামে এবং লাইসেন্স বিহীন গাড়িতে তেল কি কারণে বিক্রি করছে জানতে চাইলে কেউ কোন কথা বলেন নাই। তারা এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন। নুর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার কে, একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়েছে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহরিয়ার হক কে, এই পর্যন্ত তিনটি পেট্রোল পাম্পের সব ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে, এবং যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ও ভিডিও ফুটেজ ও সব তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তবে এখনো তাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

