স্টাফ রিপোর্টার: আরিফ আজাদ
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের মধ্যেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে বৃষ্টি। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে—কারণ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশজুড়ে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে তিন বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। এর সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, “প্রথমে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকবে, পরে তা দেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তৃত হতে পারে।”
অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সতর্ক করে বলেছে, টানা বৃষ্টির সঙ্গে উজানের ঢল যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের সারি-গোয়াইন, যদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংশ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বরুয়া বলেন, “অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে হাওড় অঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে পারে, যা স্বল্প সময়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।”
এতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে মেঘালয়ের উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোতে পড়বে বলে জানানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটি হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে আকস্মিক বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকি কমানো যায়।
পটভূমি সংক্ষেপ:
বাংলাদেশে এপ্রিল-মে সময়কালে তাপপ্রবাহ শেষে মৌসুমি বায়ুর আগমনের পূর্ববর্তী সময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় এলাকাগুলো উজানের ঢলের কারণে প্রতিবছর আকস্মিক বন্যার মুখোমুখি হয়, যা কৃষি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষণ (যাচাইযোগ্য তথ্য ও আশঙ্কা পৃথকীকরণ):
যাচাইযোগ্য: আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টির পূর্বাভাস, নির্দিষ্ট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কতা।
আশঙ্কা/সম্ভাবনা: অতিভারী বৃষ্টির মাত্রা, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম, আকস্মিক বন্যার প্রকোপ—এসব পরিস্থিতি বৃষ্টির তীব্রতা ও উজানের ঢলের ওপর নির্ভরশীল।
প্রকৃতির এই রূপান্তর—প্রচণ্ড তাপ থেকে অবিরাম বর্ষণ—স্বস্তি ও শঙ্কার এক দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে আকাশের দিকে, আর প্রস্তুতি থাকবে মাটির মানুষদের হাতে।

