• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • নানা অনিয়মে জড়িত ঐতিহ্যবাহী রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় 

     swadhinshomoy 
    01st Nov 2025 6:17 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:

    মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলা সদরের একমাত্র মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নানা অনিয়মে ও দূর্নীতিতে জড়িত,নেই শিক্ষার মানের উন্নয়ন, আছে নিয়োগ জটিলতা, অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক পেয়েছেন এমপিও। অবৈধদের দাপটে বৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক পায়নি এমপিও পূর্বে যে ভাল ফলাফল করত ছাত্রীরা তা এখন খারাপের দিকে।
    বিদ্যালয় টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠার পর হতেই স্কুলটি আস্তে আস্তে সুনাম কুড়িয়ে আসছিলো তারই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন যোগমায়া সাহা রায় যখন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন কালীন সময়ে। লেখা পড়া খেলাধুলা সাংস্কৃতিক বিষয়সহ সকল বিষয়ে শুনাম কুড়িয়েছিল মাদারীপুর জেলা ব্যাপী। একসময় যোগমায়া সাহা রায় অবসরে গেলে কৌশলে এবং ম্যানেজ করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন মনিন্দ্রনাথ বাড়ৈ। এরপর শুরু হয় হরিলুট, তিনি দ্বায়িত্ব নেয়ার পর হতে স্কুলের লেখা পড়ার মানসহ সর্বদিক খারাপ হতে থাকে
    যা এখনও অব্যাহত সুনাম নেই আগের মতো। বিভিন্ন সমস্যা ও নানা কারণে প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্রনাথ বাড়ৈ রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গিয়ে ঢাকার নিকটবর্তী একটি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন কিন্তু সেখানে বেশি থাকতে পারেননি তিনি, রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে এবং কমিটি তাদের ক্ষমতা বলে ফিরিয়ে এনে যোগদান করান এই বিদ্যালয়ে,এবার তিনি সকলকে খুশি রাখার জন্য শুরু করেন ম্যানেজ করার প্রকৃয়া। জড়িয়ে পড়েন নানা অর্থনৈতিক অনিয়মে। অবশেষে ম্যানেজ করায় ব্যর্থ হওয়ায় ২১/৯/২০২৩ ইং তারিখে চিরবিদায় নেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এখন ও চলমান।
    রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
    আছে শিক্ষক নিয়োগ জাটিলতা যে কারণে এনটিআরসিএ কর্তৃকপক্ষের মাধ্যমে তিন জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয় তারা এমপিও ভূক্ত হতে পারেন নাই ফলে তারা এই স্কুল থেকে অন্যত্র চলে গেছেন । তাদের এমপিও হবার জন্য চারবার আবেদন করা হলেও প্রতিবারই তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যায়। স্কুল এর বেতন ছাড়া সরকারী কোন বেতন পেতেন না রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক নিলয় ঢালী, পদার্থ বিষয়ের শিক্ষক সবুজ সরকার, আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক অংশু বাড়ৈ।
    পাশাপাশি আছে শিক্ষকদের মধ্যে নানা জটিলতা জটিলতার চিত্র ফুটে ওঠে বিদ্যালয়ের অভিভাবক শ্রেণীর নির্বাচন কালীন সময়ে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলার মিটিংএ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের হাজির হবার কথা বা নিয়ম থাকলেও দ্বায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক সহকারী প্রধান শিক্ষককে না নিয়ে একা যান, যদিও সেখানে সকল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন এ বিষয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তাকে প্রশ্ন করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আসেনি কেন? আর এই গ্রুপিং এর কারণে স্কুলের লেখা-পড়ার ক্ষেত্রে হয় সমস্যা।
    রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক শ্রেণীর নির্বাচনের ফর্ম বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যেখানে ফর্মের দাম সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা হতে দুই হাজার টাকা নির্ধারিত করা ,সেখানে এই স্কুলে প্রতিটি ফর্ম বিক্রি করা হয় আট হাজার (৮৫০০) টাকায়। এই বেশি নেওয়া আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় তবুও রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মের কোনো বালাই নেই। এ বিষয়টি সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কোন শিক্ষক প্রতিনিধি জানেন না বলে শোনা যায় পাশাপাশি এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী ফর্ম বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির ঘনিষ্ঠ মহল মিলে আর্থিক অনিয়মে জড়িত।
    রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অতিরিক্ত শাখা খোলা আছে সপ্তম শ্রেণী,অষ্টম শ্রেনী, নবম শ্রেণি ও দশম শ্রেনীতে শাখায় খোলা হয়,আর এখানে অবৈধভাবে অতিরিক্ত সাত জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয় বিধি মোতাবেক তাদের এমপিও ভুক্ত হবার কথা নয়, কারণ যেখানে এনটিআরসিএ শিক্ষকগণ এমপিও হতে পারছেন না। তবে পরিশেষে জানা যায় অবৈধভাবে এমপিও হওয়া এই অতিরিক্ত শিক্ষকদের কারণে ঐ তিন শিক্ষক এমপিও হতে পারেননি। মূল বিষয়ের শিক্ষক ছাড়া অবৈধভাবে এমপিও হয়েছেন গণিত বিষয়ে ১ জন, ব্যবসা শিক্ষা শাখা ৩ জন, সমাজ বিজ্ঞান শাখায় ৩ জন, মোট সাত জন, শিক্ষক, আল-আমিন হাওলাদার,পরিক্ষিত সাহা, লিলি বিশ্বাস, সোভা হালদার, রতন পান্ডে, নিলয় মন্ডল,শ্যামল মন্ডল। মুল বিষয়ে আরো যারা এমপিও ভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন তারা হলেন বাংলা বিষয়ে রাধা রানী কুন্ডু, ইংরেজি বিষয়ে বিনয় শিকদার, গণিত বিষয়ে বুলবুল হাওলাদার সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই পদটি শুন্য রয়েছে,বানিজ্য বিষয়ে ভারতী রানী কুন্ডু, শারিরীক বিষয়ে বিথিকা রানী পাল, গ্রহন্থগার বিজ্ঞান বিষয়ে মিঠুন চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ে রয়েছেন শহীদুল ইসলাম ও পরিতোস কান্তি বৈদ্য। বর্তমানে রসায়ন বিষয়ে নিলয় ঢালী, ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ে সবুজ সরকার, ও আইসিটি বিষয়ের অংশু বাড়ৈ এই স্কুল থেকে অন্যত্র চলে গেছেন।এখানে বৈধভাবে যারা শাখা শিক্ষক হিসেবে আছেন তারা হলেন সাইদুল ইসলাম ব্যবসা শিক্ষা শাখা, প্রশন কুমার সমাজ বিজ্ঞান শাখা, কার্তিক মন্ডল বাংলা বিষয়ে, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মারা যাওয়ার কারণে পদটি শুন্য। এছাড়া অফিস সহকারী গোপাল ও নির্মল সেন, নৈশ্য প্রহরী নিরাপদ বেপারী, আয়া হিসেবে বিথি আক্তার, পরিছন্ন কর্মী অনুপম মল্লিক, নিরাপত্তা কর্মী অরুন গাংগুলী ও সুশান্ত মধু, এবং কোন নিয়োগ নেই শাওন মাহমুদের।
    গত ৫ জুলাইয়ের আগে বিগত সরকারের আমলে স্কুলের সভাপতি ছিলেন বর্তমান কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য জনাব শাজাহান খান ওই সময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয় এবং গত ৩১/৫/২০২৪ তারিখের নিয়োগ পরিক্ষা যথারীতি লিখিত মৌখিক পরীক্ষা মাধ্যমে প্রথম স্থান অধিকারী নুর হোসেন হাওলাদার কে নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত করা হয় এবং ৩০/৬/২০ ২৪ ইং তারিখে নিয়োগপত্র পাঠানো হয় কিন্তু নুরহোসেন হাওলাদার যোগদানের শেষ দিনে ২০/৭/২৪ ইং তারিখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি যোগদান করবেন না মর্মে সময় চেয়েও লিখিতভাবে আবেদন করে জানান। এরপর ১৪/৭/২০২৪ নিয়োগ সুপারিশ কমিটি দ্বিতীয় স্থান অধিকারী অনল চন্দ্র রায়কে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন।
    দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ম্যানেজিং কমিটি নিতে নারাজ ছিলেন বিধায় ২৭/৮/২০২৪ ইং তারিখে সভায় নিয়োগ কমিটি উক্ত সুপারিশ স্থগিত করে দেন। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ব্যক্তি তাকে কেন নিয়োগদান করা হবে না এই মর্মে অনল চন্দ্র রায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।
    এরপর প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষক নুরহোসেন হাওলাদার যোগদান করবেন না বলে ঐ সময়ে লিখিত ভাবে জানালেও তিনি এখন যোগদান করবেন বলে তিনিও
    মামলা করলে উভয়ের মামলা মহামান্য হাইকোর্ট চলমান আছে। গুঞ্জন শোনা যায় এক পক্ষের মামলার খরচ স্কুল পক্ষের লোক বহন করেন যাতে দীর্ঘ সময় মামলা চলে এবং বর্তমান পদে বহাল থাকা যায়। আর এ কারণেই হচ্ছে না কোন সমাধান
    আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হওয়ার পরে স্কুল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আবার নতুন করে নির্বাচন হওয়া কথা থাকলেও আবারও স্থগিত হলো অভিভাবক শ্রেণীর নির্বাচন সমাধান করার জন্য করতে হবে অপেক্ষা।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    November 2025
    S M T W T F S
     1
    2345678
    9101112131415
    16171819202122
    23242526272829
    30