[মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি]
রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের একপাশে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনে উঠানামার জন্য র্যাম্প না থাকায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ পড়ে গিয়ে পা ভাঙছেন। এ অবস্থায় স্টেশনে দ্রুত র্যাম্প নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে স্টেশনের সামনেই এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিসিডিবি-সিআরপির সহযোগিতায় গোদাগাড়ী উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সিসিডিবি-সিপিআরপির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটির সভানেত্রী দুলালী বেগম, কাকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সরকার, পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য লতিফা বেগম, রিশিকুল ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আলিয়া বেগম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক, মাদ্রাসার শিক্ষক মইনুল ইসলাম প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার যাত্রী ব্যবহার করেন। কমিউটার ট্রেন, মল্লিকা পুনর্ভবা, ঢালারচর এক্সপ্রেস, মেইল ট্রেন, মহানন্দা এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন এই স্টেশন হয়ে যাতায়াত করে। তবে স্টেশনের মেইন লাইনের পাশে কোনো প্ল্যাটফর্ম বা র্যাম্প নেই। শুধু লুপ লাইনে প্ল্যাটফর্ম আছে। ক্রসিংয়ের জন্য ট্রেন মেইন লাইনে দাঁড়ালেই যাত্রীদের ওঠানামার জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে প্রবীণ যাত্রী ও শিক্ষকরা ট্রেনে ওঠানামায় চরম কষ্ট করেন।
বক্তারা বলেন, মাঝে মাঝেই যাত্রীরা পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙেন। বছরখানেক আগে স্টেশনের বুকিং সহকারী ফায়জানা ইয়াসমিনও পড়ে গিয়েছিলেন ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে। তারও পা ভেঙে গিয়েছিল। তারা এখানে র্যাম্প নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের অন্তত এক মিনিট স্টপেজ দাবি করেন।
মানববন্ধন শেষে দাবি আদায়ের লক্ষে কাকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তারের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর এবং কাকনহাট পৌরসভার প্রশাসক শামসুল ইসলামের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
কাকনহাট স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তার বলেন, এলাকাবাসীর এই দাবি যৌক্তিক। মেইন লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় যাত্রীদের সত্যিই অনেক ভোগান্তি হয়। তাদের স্মারকলিপি যথাবিহিত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

