• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • সাদা সোনায় সমৃদ্ধ বাগেরহাট : চিংড়ি শিল্পে বদলে যাচ্ছে অর্থনীতির চিত্র 

     swadhinshomoy 
    27th Dec 2025 2:47 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি | মোঃ রাকিব ইসলাম

     

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট আজ চিংড়ি শিল্পের জন্য একটি সুপরিচিত নাম। এই জেলার চিংড়ি স্থানীয়ভাবে ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত, যা শুধু একটি মাছ নয়—বরং জেলার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বছরের পর বছর ধরে বাগেরহাটের চিংড়ি দেশের অর্থনীতিতে নীরবে কিন্তু দৃঢ় অবদান রেখে চলেছে।

    ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল এবং লবণাক্ত ও আধা লবণাক্ত পানির প্রবাহ এই অঞ্চলে চিংড়ি চাষের জন্য আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বাগেরহাট সদরসহ ফকিরহাট, কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও রামপাল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে চিংড়ি ঘের। এসব ঘেরে প্রধানত গলদা ও বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়।

    বাগেরহাটে উৎপাদিত চিংড়ি দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এই জেলার চিংড়ির চাহিদা রয়েছে। চিংড়ি রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    এই শিল্পের সঙ্গে বাগেরহাট জেলার লাখো মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। চিংড়ি চাষি, ঘের শ্রমিক, পোনা সংগ্রহকারী, পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার শ্রমিক—সবাই কোনো না কোনোভাবে চিংড়ি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এই শিল্প উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

    জেলায় গড়ে ওঠা চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চিংড়ি সংরক্ষণ ও হিমায়িত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করার কারণে বাগেরহাটের চিংড়ি বিশ্ববাজারে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
    তবে এই সম্ভাবনাময় শিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়েও এগিয়ে চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘেরে রোগবালাই, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব চাষিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সমস্যা সমাধানে সরকারি নজরদারি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং চাষিদের প্রশিক্ষণ জরুরি।

    সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্প জেলার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এই ‘সাদা সোনা’ ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে এবং বাগেরহাটকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করবে

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    December 2025
    S M T W T F S
     123456
    78910111213
    14151617181920
    21222324252627
    28293031