ম.ম.রবি ডাকুয়া,মোংলাঃ
চলছে পর্যটন মৌসুম,একদিকে শুকনো শীতের মৌসুম আবহাওয়ার কোন বিরুপ প্রভাব নেই,নেই বৃষ্টিতে ঘরে ফেরার তাড়া।অপর দিকে নানান ছুটিতে সুন্দরবন হয়ে উঠেছে পর্যটকদের মিলনমেলা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ বছরের সর্বোচ্চ দুই সহস্রাধিক পর্যটক সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করেছেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে চার সহস্রাধিক পর্যটক সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখেছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের পর্যটন কেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্যের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মতিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনে এখন পর্যটকের ঢেউ লেগেছে। প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজে করে শত শত পর্যটক বনে প্রবেশ করছেন।
তিনি জানান, শনিবার একদিনেই ৩৮টি পর্যটকবাহী জাহাজে করে দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা কেন্দ্রে আসেন, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ। পর্যটকরা কটকার বনে চিত্রল হরিণের দলবদ্ধ ছোটাছুটি, নদী ও খালের চরে কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। পাশাপাশি জামতলা সি-বিচে ঘোরাঘুরি করছেন অনেকে, কেউ কেউ নামছেন সাগরের পানিতেও।
এদিকে সুন্দরবনের আরেক জনপ্রিয় স্পট করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রেও পর্যটকের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে করমজলেও বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন।’
তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও গত বছরের তুলনায় তা কিছুটা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্যুর অপারেটর উজান ভাটি লঞ্চের মালিক সোহাগ মোল্লা বলেন, ‘এ বছর পর্যটক আসছেন ঠিকই, কিন্তু গত বছরের তুলনায় সংখ্যাটা কিছুটা কম। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন আরও জোর দেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা প্রত্যেক পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজে থাকছেন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী এবং কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল থাকায় পর্যটকরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের যাতায়াত বর্তমানে বেড়েছে। ২৫ ডিসেম্বর বিভাগীয় দপ্তর থেকে ১৮টি ট্যুর পারমিশন ইস্যু করা হয়েছে। এসব পারমিশনের আওতায় ৬১১ জন দেশি ও ১৩ জন বিদেশি পর্যটক বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে গেছেন।’

