মোঃ আলামিন হোসেন, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে এখন প্রকৃতির এক অপরূপ দৃশ্য। দিগন্তজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহে মাঠ-প্রান্তর যেন সোনালি চাদরে ঢাকা পড়েছে। আর এই হলুদের মায়াবী হাসিকে ঘিরেই দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন চলনবিলের মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহের ধুম চলায় এলাকাটি এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, চলনবিলের বিস্তীর্ণ সরিষা মাঠের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে শত শত মৌচাক (মৌ-বক্স)। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌমাছিরা ফুল থেকে নেক্টার সংগ্রহ করে চাকে জমা করছে। আর সেই চাক থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছেন চাষিরা।
মৌচাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি ফুলের গুণগত মানও চমৎকার। ফলে মৌমাছির জন্য পর্যাপ্ত পরাগ ও মধুর উৎস মিলছে। তারা আশা করছেন, চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় মধুর উৎপাদন অনেক বেশি হবে।
স্থানীয় এক মৌচাষি বলেন, “সরিষার ফুল যত সতেজ থাকে, মধুর পরিমাণও তত বেশি হয়। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার আমরা লাভবান হবো। তবে আমরা এখনো সনাতন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করছি। যদি সরকারি আর্থিক সহায়তা, আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাওয়া যেত, তবে এই শিল্পকে আরও বড় করা সম্ভব হতো।”
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ করলে শুধু মধু পাওয়া যায় না, বরং মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এটি কৃষক ও মৌচাষি—উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “চলনবিল অঞ্চল মধু উৎপাদনের এক বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। আমরা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌচাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষকের আয় বাড়বে এবং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। সরকারিভাবে প্রণোদনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাতকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয় মৌচাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি—সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদিত মধু বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা। তাদের বিশ্বাস, সরকারি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চলনবিল অঞ্চল খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম প্রধান মধু উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হবে।

