মোঃসোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারকের নির্দেশক্রমে এআই মিজানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের নির্দেশ মামলা নং-জি.আর ৪১/২০২৪। বগুড়া সোনাতলা থানা পুলিশের মামলার সিএস ভূক্ত আসামী মোঃ সাইদুর রহমান তুষ্টি, পিতা মোঃ সারোয়ার হোসনে স্থায়ী বর্তমান সাং আগুনিয়াতাইড় (মাষ্টার পাড়া) থানা-সোনাতলা জেলা-বগুড়াকে অত্রাদালতের বিগত ০২/০৭/ ২০২৫ইং তারিখের ২০৮৮ নং স্মারক মূলে ইস্যুকৃত ওয়ারেন্টমূলে গ্রেফতারপূর্বক পুলিশ স্কর্ট দ্বারা আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় অত্র আদালতে উপস্থিত করেছেন।ডকে উপস্থিত আসামী মোঃ সাইদুর রহমান তুষ্টিকে পর্যবেক্ষন করেন আসামী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অভিযোগ করেন যে গত ১৪-০৮-২০২৮ সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সিভিল ড্রেস পরিহিত ২ জন ও পুলিশের পোশাক পরিহিত ১ জন মোট ৩ জন পুলিশ সদস্য তার বাড়িতে এসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় মারপিট করে একটি সিএনজিতে তোলেন এবং এরপর উক্ত সিএনজির ভিতরেই মারপিট করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে থানার ডিউটি অফিসার এ.এস.আই মিজান আসামীকে দেখতে পেয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং তিনিসহ উপর্যুক্ত ৩ পুলিশ সদস্য মিলে তাকে থানার ভেতরের বারান্দায় নিয়ে এলোপাথারি মারপিট করে।মারপিটের এক পর্যায়ে ফর্সা চেহারার সাড়ে পাঁচ ফিট লম্বা আকৃতির সিভিল ড্রেস পরিহিত একজন পুলিশ হকিষ্টিক দিয়ে তার দুই হাতের কনুই কব্জির উপর এবং শরীরের পিছনের নিতম্বে (পাছায়) উপর্যুপরি আঘাত করে।আঘাতের স্থান গুলোতে ছেলাফুলা কাটা জখম হয় আসামী তুষ্টি মারপিটের একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলে এ.এস.আই মিজান তার পায়ের জুতা দিয়ে জখমীর গলার বাম পার্শ্বে সজোরে লাথি মারে। সিভিল ড্রেস পরিহিত মারপিটকারী অপর পুলিশ সদস্য লম্বায় সাড়ে পাঁচ ফিটের উপরে গায়ের রং ফর্সা ও তার মুখে হাল্কা দাঁড়ি ছিল।এরপর তাকে স্কর্ট পার্টির মাধ্যমে সকাল ১১:৩০ টার পর থানা থেকে চালান দেয়া হলে উক্ত স্কর্ট পার্টি তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সোনাতলা বগুড়ায় নিয়ে যায় এবং সেখানে মেডিকেল অফিসার তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসাপত্র প্রদান করে এরপর তাকে উক্ত স্কর্ট পার্টি তাকে আদালতে নিয়ে আসেন।আসামীর বক্তব্য শ্রবণ করার পর আদালতের নিকট প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে যে অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অভিযোগ নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।আইনের ৯ ধারার বিধান মোতাবেক এখতিয়ার সম্পন্ন হয়ে উক্ত আইনের ৪(১) (ক) ধারার বিধান মোতাবেক তাৎক্ষনিকভাবে হলফান্তে উপর্যুক্ত বিষয়ে অভিযোগকারীর জবানবন্দী গৃহীত করেন আসামীর শরীর পরীক্ষা করা হলো আসামীর শরীরের দুই হাতে ছেলাফুলা ও কাটা জখমের উপস্থিতি পর্যবেক্ষন করেন আদালতের নির্দেশে অফিস সহায়ক মোঃ বেলাল হোসেন আসামীর লজ্জাস্থান (পাছা) পরীক্ষা করে জখম পর্যবেক্ষন করে জখমের অস্তিত্ত্ব পেয়েছেন মর্মে অবহিত করেন।থানা থেকে আসামীর চালান ফরোয়ার্ডিং অত্রালতে প্রেরণ করা হয়নি কেবল সোনাতলা থানার ডিউটি অফিসার এ.এস.আই মিজান কর্তৃক সাক্ষরিত আসামীর চালান ফরম এবং আসামীর হাসপাতালের চিকিৎসাপত্র প্রেরন করা হয়েছে। উক্ত চিকিৎসাপত্রে injury to forearm মর্মে পর্যবেক্ষন ও কিছু ঔষধের ব্যবস্থাপত্রসহ মেডিকেল অফিসার স্বাক্ষর করেছেন মর্মে দেখা যায়।সার্বিক পর্যালোচনায়, আসামী কর্তৃক আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় মর্মে প্রতীয়মান হয়। বিধায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন, ২০১৩ এর ৪ ধারার বিধান মোতাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল বগুড়াকে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা অবিলম্বে জখমীর দেহ পরীক্ষা করে জখম ও নির্যাতনের চিহ্ন এবং নির্যাতনের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ পূর্বক আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করে অভিযোগকারী/জখমী মোঃ সাইদুর রহমান তুষ্টি অথবা তার মনোনীত ব্যক্তিকে এবং অত্রাদালতে প্রেরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।একইসাথে একই আইনের ৫(১) ধারার বিধান মোতাবেক অভিযোগকারী/আসামী মোঃ সাইদুর রহমান তুষ্টির প্রদানকৃত বিবৃতির একটি কপি পুলিশ সুপার, বগুড়া বরাবর প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো এবং পুলিশ সুপার বগুড়া-কে বর্ণিত বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে অত্র আদালতকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

