মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি সড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে গিয়ে সড়কটিতে দেখা যায় ফাটলের দৃশ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি ঢালাই দ্বারা সড়কটি নির্মাণের চার দিনের মাথায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর সড়কটির নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, শ্রীপুর চৌরাস্তা থেকে বরমী আঞ্চলিক সড়ক পর্যন্ত অংশে এই নির্মাণকাজটি পায় আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইমদাদুল হক। সম্প্রতি সড়কটির আরসিসি ঢালাই দ্বারা সম্পন্ন হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সড়কের মাঝে দীর্ঘ ফাটল দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে সড়কটিতে। যথাযথ তদারকির অভাবে সড়কটিতে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে নির্মিত সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তাঁরা বলছেন, নির্মাণকাজে অনিয়মের পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকতে পারে। এ ঘটনায় শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
সড়কটির নির্মাণকাজের বিষয়ে শ্রীপুর চৌরাস্তার ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই যদি এমন ফাটল দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে কাজের মান ঠিক ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা টেকসই একটা রাস্তা চাই— বারবার সংস্কার নয়।’
অটোরিকশাচালক আলাল মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক গাড়ি চলাচল করে। এখনই যদি ফাটল ধরে, তাহলে সামনে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী সজীব বলেন, ‘সরকারের এত টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু কাজের গুণগত মান ঠিক না থাকলে এর কোনো মূল্য থাকে না। সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিয়ান এন্টারপ্রাইজের মালিক ইমদাদুল হকের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে জানা যায় তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি আরবে অবস্হান করছেন।
জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দৈনিক স্বাধীন সময় প্রতিনিধিকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্নীতির সম্পৃক্ততা আমার নেই।’ তিনি বলেন, ‘গত তিন-চার দিন আগে প্রচণ্ড রৌদ্রের তাপের কারণে সড়কের কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ফাটলগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।’ তবে নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কোনো মন্তব্য করেননি।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আকতার বলেন, ‘প্রচণ্ড রোদের তাপের কারণে এমন হয়। এটাকে ফাটল বলে না, আগামীকাল থেকে পানি ব্যবহার করে ট্রিটমেন্ট দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। এটা রেডিমিক্সের সবকিছু মিক্স করে ব্যবহার করা হয়েছে।’ এ প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘বেশি সমস্যা হলে আমরা পুনরায় ট্রিটমেন্ট করব।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঁইয়া দৈনিক স্বাধীন সময় পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বিষয়টা আমি গতকাল শুনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি, সমাধান করে দেব।’ ইউএনও নাহিদ ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘কাজের মধ্যে কোনো ত্রুটি আছে কি না—ইতিপূর্বে আমি ইঞ্জিনিয়ারকে বলেছি। কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকলে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

