আশিকুর রহমান সিয়াম, সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ১৩ বছর বয়সী রাতুল নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় দুই চিকিৎসকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিহত রাতুল মানিকগঞ্জ সদর থানার কার্টিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। ১৮ আগস্ট, সোমবার দুপুরে তার গলায় টনসিলজনিত সমস্যা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ডের ‘সাভার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’-এ নিয়ে যান। সেখানে নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসিফ আল হাসান মেহেদী (৪৫), যিনি অনিক নামেও পরিচিত, এবং ডাক্তার শাহানাজ (৪৫) রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। রাতেই অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
অপারেশনের পর রাতুলকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে তার নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয় এবং অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বজনরা বারবার বিষয়টি হাসপাতালের নার্স ও স্টাফদের জানালেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। চিকিৎসকদের অবহেলা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে রাতুলকে পুনরায় অপারেশন কক্ষে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতুলকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় রাতুলের বাবা জাহিদুল ইসলাম ২০ আগস্ট, বুধবার রাতে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক আসিফ আল হাসান মেহেদী, ডাক্তার শাহানাজ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সদস্য শামীম আহম্মেদ (৫২), বাবুল (৬৫) এবং আসাদ (৪৫)। মামলার এজাহারে চিকিৎসায় গাফিলতা, দায়িত্বহীনতা এবং রোগীর প্রতি অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা গণমাধ্যমকে জানান, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা মান ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

