এইচ এম সাগর (হিরামন),খুলনা:
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অফসিজন তরমুজ এর আবাদ বেশি ভালো হয়নি। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে তরমুজ এর গাছ মারা যায়। যার কারনে তরমুজ চাষিরা এবার বেশি লাভের আশা দেখছে না। তারপরও এবার এর দাম তেমন একটা বেশি ভালো না। মাঝেমধ্যে দাম বেশি হলেও সিন্ডিকেট চক্রের কারণে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে লসের ভাগ। শুরুতে ৬০ টাকা প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হলেও শেষ মুহূর্তে ৫০, ৪০,৩০ টাকা এর কোটায় দিয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত বর্ষার কারণে এবার তরমুজের আবাদ হয়েছে অনেক কম। বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,গত বছরের চেয়ে এবার তরমুজের ফলন অর্ধেক এর চেয়ে কম। তরমুজের পাশাপাশি অন্যা সবজির ব্যবসা তেমন একটা ভালো না। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে শুরু হয়েছে মাঠ জুড়ে আমন ধান রোপনের হিড়িক। সমগ্র বিল জুড়ে মাছের ঘের, সেই মাছের ঘের জুড়ে রয়েছে মাচা,আর সেই ঘেরের ভেড়িতে লাগানো হয়েছে অফসিজন তরমুজ চাষ। বর্তমানে ঘেরের মাচায় ঝুলছে কৃষকের অফসিজন তরমুজ।
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। কৃষকরা জানিয়েছে অতিরিক্ত বর্ষা বাদলের কারণে এবার তরমুজ চাষের ফলন বেশি ভালো হয়নি। বারোআড়িয়া এলাকার বিশিষ্ট তরমুজ চাষী নির্মল বাওয়ালী বলেন, এবার তরমুজ আবাদ ভালো হলেও বর্ষার কারণে কিছুটা ফলন কম হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছপালা মারা গেছে। অন্যান্য সবজির ভালো না। এর উপর আবার ইঁদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কৃষকরা। হরিদাস মিস্ত্রি বলেন, সারা রাত জেগেই আমাদের তরমুজ পাহারা দিতে হয়। মিলন বিশ্বাস বলেন, ইঁদুর নিধনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা চান তিনি। ৫,৭ কেজি ওজনের তরমুজ প্রতি রাতেই ইঁদুরে নষ্ট করছে। প্রতিটা তরমুজের আনুমানিক মুল্য ৩ থেকে ৪ শত টাকা। কৃষক শরিফুল ফকির বলেন, অতিরিক্ত বর্ষার কারণে গাছে পোকা লেগে যাচ্ছে। ওষুধে ভেজাল হওয়ার কারণে গাছে ওষুধ প্রয়োগ করলেও তাতে কাজ হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষকরা বলেন, গ্রাম অঞ্চলে কিছু বালাইনাশক ভুঁইফোড় ঔষধ কোম্পানি রাস্তায় মোড়ে, বিভিন্ন দোকানে, ফুটপাতে,কৃষকদের ডেকে নিয়ে প্রশিক্ষণ ট্রেনিং ও তাদের কোম্পানির ঔষধ ব্যবহারের কথা বলে থাকেন। তারা বলেন, আমাদের কোম্পানির ঔষধ প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে তা উল্টো দেখা যায়। কৃষক ইউনুস খা বলেন, তরমুজের ফলন এবার বর্ষার কারণে ভালো না হলেও। ভুঁইফোড় ঔষধ কোম্পানির ঔষধ ব্যবহার করার কারণে কারনে কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মাঠ জুড়ে এবার চাষ হয়েছে রিজেন্ট-২ বিগ আস্থা, আস্থা, বিগ আস্তা মাচা, ডাবল প্লাস, নিউ বরিশাল, জাপান-২, ড্রাগন কিং জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। চলতি ২৪-২৫ অর্থ বছরে ৬৪০ হেঃ জমিতে অফসিজন তরমুজের আবাদ হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকা।
গাওঘরা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার অঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমার ব্লকে রাজাখাঁ বিলে ৭৫০ বিঘা জমি আছে, তার মধ্যে প্রায় ৫শত বিঘাতে অফ সিজন তরমুজের আবাদ হয়েছে। ৪-৫ বছর আগে এই বিলে শুধু মাত্র মাছ আর ধান হতো। গত দুই বছর হচ্ছে এই বিলে অফসিজন তরমুজের চাষ। যার অর্ধেক জমিতে রয়েছে রিজেন্ট-২ জাতের তরমুজ।
এ বছর সুরখালী ইউনিয়নে ৬৪০ হেক্টর এর মধ্যে ৬০০ হেক্টর আবাদ হয়েছে । এ বছর অফসিজন তরমুজ চাষ করে কৃষকেরা লাববান হবে বলে ধারণা জরা হচ্ছে। বুনারাবাদ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুরখালী ইউনিয়নে বিসি আরএল প্রকল্পের আওতায় ৪টি তরমুজের কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালিত হয়। প্রতি স্কুলে ৪০ জন করে কৃষক/কৃষাণী আছে। ৭টি সেশনের মাধ্যমে তাদেরকে অফসিজন তরমুজ চাষের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। রাজাখাঁ বিল সহ সুরখালী ইউনিয়নে খড়িয়াল, রায়পুর, সুরখালী, ভগবতিপুর, সুন্দরমহল, শম্ভুনগর,বারোআড়িয়া, কোদলা, বুনারাবাদ, নাইনখালী, পার্শেমারী, বারোভুঁইয়া ও সানকেমারীতে অফসিজন তরমুজের চাষ করে কৃষকেরা এখন সাবলম্বী। তিনি আরও বলেন, বটিয়াঘাটা উপজেলায় উৎপাদিত অফসিজন তরমুজ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা কৃষি বিভাগ সর্বক্ষণ কৃষকের পাশে আছি। আমরা মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা সহ বিসিআরএল প্রকল্পের আওতায় ৫ টি কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালিত হয়। ২০০ জন কৃষক / কৃষাণীকে বীজ সহায়তা সহ ৭টি সেশনের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছি। আমরা কৃষি বিভাগ আশাবাদী আগামীতে বটিয়াঘাটা উপজেলায় অফসিজন তরমুজের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে। তবে বৃষ্টির সিজনে খরচ কম। যে কারণে কৃষক বেশি লাভ পায়, এজন্য শতভাগ কৃষক অফসিজন তরমুজ চাষে ঝুকছে।

