সারোয়ার নেওয়াজ শামীম, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় উদ্যানে ৪টি মুখপোরা বিরল প্রজাতির হনুমান অবমুক্ত করা হয়। এর আগে হনুমান চারটি ঢাকার সাফারি পার্কে ছিলো। ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল জানকিছড়া রেসকিউ সেন্টারে একমাস পরিচর্যা করে সাতছড়িতে অবমুক্ত করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক জামেল মোহাম্মদ খান,রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ,
এফজি শেখ মিজানুর রহমান,সহ বনপ্রহরী।
বিলুপ্তপ্রায় ৪টি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করেছে বন বিভাগ চট্টগ্রাম । সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন
উদ্ধার করা হনুমান গুলোর মধ্যে ২টি বাচ্চা এবং ২ প্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রাকৃতিক বন থেকে পাচারকারিরা এসব হনুমান ফাঁদে পেলে শিকার করেছে।
উদ্ধার করা হনুমানগুলো ঢাকা সাফারি পার্কে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলানের তথ্য মতে,দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের দেখা মেলে যার মধ্যে একটি হল মুখপোড়া হনুমানের (Hanuman Langur)। বুনো পরিবেশে এদের গড় আয়ু ১৮-৩০ বছর। সাধারণত জুলাই- অক্টোবর বা কোনো-কোনো ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর সাধারণত ১/২টি বাচ্চা প্রসব করে। হনুমানের এই প্রজাতিটি গাছের কঁচিপাতা, শাকসবজি ও ফলমূল, ফুল খায়। তবে বসতবাড়ির কাছাকাছি বসবাস করায় মানুষের খাবারেও এরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তার তথ্যমতে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন)-২০১২ অনুযায়ী হনুমানের এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।পাহাড় কাটা এবং বন্যপ্রাণী নিধনের কারণে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য এখন বিলুপ্ত প্রায়।

