মোঃরেজাউল হক রহমত,নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার অপসারণ এবং ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নবীনগর উপজেলার নাসিরাবাদ বালুমহালে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ বিন মনসুর। অভিযান চলাকালে তাকে সহযোগিতা করেন নবীনগর থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
জানা গেছে, চুক্তিপত্রে উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও ইজারাকৃত বালুমহালে অতিরিক্ত একটি ড্রেজার ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযানে সেটি চালু অবস্থায় ধরা পড়ে। পরে সেটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ইজারাদারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এই পদক্ষেপের পেছনে প্রভাব রেখেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন, যেখানে নাসিরাবাদ বালুমহালে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ আশপাশের গ্রামের ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এলাকাজুড়ে ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান (তুষার) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপরই প্রশাসন অভিযানে নামে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখের সামনে এসব অবৈধ ড্রেজার চলছিল, তবুও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংবাদ প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশের পর প্রশাসনের হঠাৎ সক্রিয়তা নিয়ে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

