তানভীর ভুইয়া, বিজয়নগর প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা—যে ভূখণ্ডে স্বাধীনতার সংগ্রামে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বালানো মানুষেরা বাস করে, সেই মাটিতে আজও শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি পূর্ণাঙ্গভাবে। এই উপজেলার শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও সরকারি কলেজ না থাকায় তাদের জীবন জুড়ে ছড়িয়ে আছে ভোগান্তির অন্ধকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় সব উপজেলায় সরকারি কলেজ থাকলেও বিজয়নগরে নেই। প্রায় তিন লাখ মানুষের এই উপজেলায় হাজার হাজার তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে। স্থানীয় বেসরকারি কলেজ থাকলেও সরকারি কলেজ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বাড়ছে এবং নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় অভিভাবক আবদুল হাকিম বলেন,
“আমার মেয়ে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে যায়। যাতায়াতে সময় যায়, টাকা যায়, আর নিরাপত্তার ভয়ে আমার রাতের ঘুম উড়ে যায়। বিজয়নগরে একটি সরকারি কলেজ থাকলে তার স্বপ্নের পথ এত কঠিন হতো না।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক মুনসুর আকিক প্রশ্ন রাখেন,
“সরকার শিক্ষার প্রসারে কত কথা বলে, কিন্তু বিজয়নগরের শিক্ষার্থীরা কেন বঞ্চিত? এটা কি ন্যায়সঙ্গত?”
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন বলেন,
“বিজয়নগরে কেন সরকারি কলেজ নেই, তা আমি নিজেও জানি না। হয়তো রাজনৈতিক কারণে এটি হয়নি।”
২০২৫ সালের জুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। বিজয়নগরের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি সরকারি কলেজের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী সাবের হোসেন বলেন,
“আমরা শুধু একটি সরকারি কলেজ চাই। আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন কি শুধু দূরবর্তী শহরে ছুটে বেড়ানো?”
নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই কষ্ট আরও তীব্র। ফাতেমা আক্তার নামের এক ছাত্রী বলেন,
“প্রতিদিন বাসে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে হয়। পথে ভয় আর অসুবিধা পিছু ছাড়ে না। যদি উপজেলায় সরকারি কলেজ থাকত, তাহলে আমরা নিরাপদে পড়তে পারতাম।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের এক অধ্যক্ষ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“বিজয়নগরে একটি সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে শিক্ষার হার বাড়বে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
বিজয়নগরের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির এই দীর্ঘ অধ্যায় শুধু একটি উপজেলার নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি এখন শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো উপজেলার প্রজন্মের ন্যায্য দাবি।

