শহীদুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এবার রোপা আমন ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আমন ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে বাড়তি খরচ জোগাতে ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছেন। কিন্তু এরইমধ্যে ধান ক্ষেতে বেড়েছে ইঁদুর ও মাজরা পোকার আক্রমণ। বড় বড় ইঁদুরের দলবেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছ কেটে ফেলছে। বিষ দিয়েও মাজরা পোকা দমন করতে পারছেন না কৃষক। ফলে ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন চরম দুশ্চিন্তায়।
রোববার (৯ নভেম্বর) সকালে করিমগঞ্জের হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সকল ক্ষেতের ধানগাছে ধানের শীষ বেরুতে শুরু করেছে। ধানগাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপোষ্ট কিন্তু অনেক ক্ষেতেই ইঁদুর ও মাজরা পোকার উপদ্রবে ধানগাছগুলো মরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ। চূড়ান্তভাবে আমন ধান আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। বোরো ফসলের মতো আমন ধান আবাদেও ভালো ফলনের আশায় সর্বাতœক চেষ্টা করছেন কৃষকরা। অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধান গাছে মাত্র ধোর (শীষ) ধরতে শুরু করেছে এসময় ইঁদুরের দলবেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গুড়ি কেটে দিচ্ছে ফলে সকাল বেলায় দেখা যায় গাছগুলো শুকিয়ে নুইয়ে পড়ছে। মাজরা পোকাও দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না। ক্ষেতগুলোর বিভিন্ন অংশে মাজরা পোকার আক্রমণের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয়, উপজেলা চরপাড়া এলাকার কৃষক হাবু মিয়া, নেয়ামতপুরের সুরুজ আলী, কাদিরজঙ্গল এলাকার জিন্নত আলী, পৌর এলাকার কৃষক মেনু মিয়া সহ আরও অনেকের সাথে তারা জানান, জমিতে বিভিন্ন শব্দ করে, বাঁশেরকঞ্চি কুপে রঙিন কাগজ টানিয়ে, চুঙ্গি দিয়ে চেষ্টা করেও ইঁদুর তাড়ানো যায় না। কৃষি অফিসারদের পরামর্শে ক্ষেতে মাজরা পোকা দমনে বিষ দেওয়ার জন্য কিন্তু বিষও মানতে চায় না।
করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব চন্দ্র ধর এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ উপজেলায় আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে আরও বেশি জমিতে ধান আবাদ হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের কিন্তু এরই মধ্যে ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি আবার বিভিন্ন জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী মাজরা পোকা দমনে ধান ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি তারা ইঁদুরের ফাঁদ, বাঁশের চুঙ্গি ও ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করছে। তারপরও কৃষকগণ যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন, আমরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। আশাকরি আমনের বাম্পার ফলন হবে।
১১.১১.২৫ খ্রি:
কিশোরগঞ্জে রোপা আমনে ইঁদুর ও মাজরা পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক
শহীদুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ.
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এবার রোপা আমন ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আমন ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে বাড়তি খরচ জোগাতে ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছেন। কিন্তু এরইমধ্যে ধান ক্ষেতে বেড়েছে ইঁদুর ও মাজরা পোকার আক্রমণ। বড় বড় ইঁদুরের দলবেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছ কেটে ফেলছে। বিষ দিয়েও মাজরা পোকা দমন করতে পারছেন না কৃষক। ফলে ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন চরম দুশ্চিন্তায়।
রোববার (৯ নভেম্বর) সকালে করিমগঞ্জের হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সকল ক্ষেতের ধানগাছে ধানের শীষ বেরুতে শুরু করেছে। ধানগাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপোষ্ট কিন্তু অনেক ক্ষেতেই ইঁদুর ও মাজরা পোকার উপদ্রবে ধানগাছগুলো মরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ। চূড়ান্তভাবে আমন ধান আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। বোরো ফসলের মতো আমন ধান আবাদেও ভালো ফলনের আশায় সর্বাতœক চেষ্টা করছেন কৃষকরা। অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধান গাছে মাত্র ধোর (শীষ) ধরতে শুরু করেছে এসময় ইঁদুরের দলবেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গুড়ি কেটে দিচ্ছে ফলে সকাল বেলায় দেখা যায় গাছগুলো শুকিয়ে নুইয়ে পড়ছে। মাজরা পোকাও দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না। ক্ষেতগুলোর বিভিন্ন অংশে মাজরা পোকার আক্রমণের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয়, উপজেলা চরপাড়া এলাকার কৃষক হাবু মিয়া, নেয়ামতপুরের সুরুজ আলী, কাদিরজঙ্গল এলাকার জিন্নত আলী, পৌর এলাকার কৃষক মেনু মিয়া সহ আরও অনেকের সাথে তারা জানান, জমিতে বিভিন্ন শব্দ করে, বাঁশেরকঞ্চি কুপে রঙিন কাগজ টানিয়ে, চুঙ্গি দিয়ে চেষ্টা করেও ইঁদুর তাড়ানো যায় না। কৃষি অফিসারদের পরামর্শে ক্ষেতে মাজরা পোকা দমনে বিষ দেওয়ার জন্য কিন্তু বিষও মানতে চায় না।
করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব চন্দ্র ধর এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ উপজেলায় আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে আরও বেশি জমিতে ধান আবাদ হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের কিন্তু এরই মধ্যে ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি আবার বিভিন্ন জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী মাজরা পোকা দমনে ধান ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি তারা ইঁদুরের ফাঁদ, বাঁশের চুঙ্গি ও ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করছে। তারপরও কৃষকগণ যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন, আমরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। আশাকরি আমনের বাম্পার ফলন হবে।

