যায়েদুর রহমান : উখিয়া (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এক তরুণ ব্যবসায়ীর মরদেহ তিন দিন পর গহীন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই ব্যবসায়ীর নাম আবুল হাসেম (২৬)। তিনি রাজাপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুছরী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে হাসেম ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় যান। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজতে গিয়ে দক্ষিণ ফলিয়াপাড়া নার্সারি সংলগ্ন জঙ্গলের ভেতরে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে হাসেমকে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।
সংবাদ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, এ ঘটনার পেছনে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র জড়িত। তাদের দাবি, দুছরী এলাকার চারজন গরু ব্যবসায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যাবে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছৈয়দ হামজা জানান, হাসেমসহ দুইজন ব্যবসায়ী একসঙ্গে ক্যাম্প এলাকায় গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এলেও হাসেম আর ফেরেননি। থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দেওয়ার পরই এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী ক্যাম্পসংলগ্ন ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

