উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: রেজাউল করিম
গত দুই থেকে তিন দিন ধরে টানা ঘন কুয়াশা ও তীব্র হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১২ যুগে এমন তীব্র শীত, কুয়াশা ও বাতাস একসঙ্গে তারা আর কখনো দেখেননি। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না, চারদিক ঢেকে থাকছে সাদা কুয়াশার চাদরে।
সকাল ৬টা থেকে প্রায় ১১টা পর্যন্ত সড়কে দৃশ্যমানতা নেমে আসছে কয়েক হাতের মধ্যে। এতে করে উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়েও ঠিকভাবে রাস্তা দেখতে না পেরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এমন ঠান্ডা ও কুয়াশায় তাদের বোরো বীজতলা ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুয়াশার কারণে সূর্যালোক না পাওয়ায় শাকসবজি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসলে পচন ধরার সম্ভাবনা বেড়েছে। অনেক কৃষক ভোরে ক্ষেত পরিদর্শনে গিয়ে গাছের পাতায় বরফের মতো শিশির জমে থাকতে দেখেছেন।
উখিয়ার থিমছড়ি, পালংখালী, হলদিয়াপালং ও রাজাপালং ইউনিয়নের পাহাড়ি ও খোলা এলাকায় হিমেল বাতাসের দাপট বেশি অনুভূত হচ্ছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর, জেলে ও চাষিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে বা খড়-কুটো জড়িয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন,
“আমার বয়স প্রায় ষাটের কাছাকাছি, কিন্তু জীবনে এমন টানা কুয়াশা আর বাতাস একসাথে কখনো দেখিনি। সকাল বেলা ঘর থেকে বের হওয়া দায়, হাত-পা অবশ হয়ে আসে।”
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও জ্বর নিয়ে রোগীর সংখ্যা গত কয়েক দিনে হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
এদিকে, হঠাৎ করে এমন শৈত্যপ্রবাহে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়লেও এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিভিন্ন বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় শীতার্ত মানুষের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো।
উখিয়ার এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া শুধু জনজীবনকেই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে এবং সকালবেলার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হতে পারছে না।
সব মিলিয়ে, টানা কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে উখিয়া যেন এক শীতল নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই নজিরবিহীন শৈত্যপ্রবাহে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

