নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ত্রিধা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামের একটি বেসরকারি ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে বিপ্লব ভট্টাচার্য পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গ্রাহকের কাছ থেকে বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা প্রসেসিং ও বিশেষ ট্যুর প্যাকেজের নামে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ গ্রহণ করে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, “প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে গ্রাহকদের প্রলোভনমূলক অফার দেখালেও শেষমেশ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, বরং কোটি টাকার বেশি অর্থ গায়েব করে দিয়েছে।”
বিষয়টি অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে দৈনিক স্বাধীন সময় পত্রিকার একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডা লিঙ্ক রোডের ট্রপিক্যাল মোল্লা টাওয়ারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সরেজমিন যান। অফিসে উপস্থিত হয়ে মালিক পক্ষের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরিদর্শনকালে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, “বর্তমানে মালিক বিপ্লব ভট্টাচার্য কারো ফোন ধরছেন না, কারো মেসেজের জবাব দিচ্ছেন না। এমনকি অনেক দিন ধরে অফিসও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।”
অনুসন্ধানে দেখা যায় একজন অভিযোগকারী বলছেন, “আমাদের টাকা দিচ্ছে না, শুধু সময় দিচ্ছে। শেষে এখন সম্পূর্ণই যোগাযোগ বন্ধ করেছে।” আরও এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই লোক শত শত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। আমরা কোথায় গেলে বিচার পাবো?”
অভিযোগকারীদের দাবি, কোম্পানিটি শুধুমাত্র ধনী বিনিয়োগকারী নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চিত টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকেই আস্থা রেখে বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্নে নিজেদের সঞ্চয়, ঋণ কিংবা সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তারা প্রতিশ্রুত সেবা পাননি, বরং একপর্যায়ে অফিস ও মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আইনগত দিক থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, পেনাল কোড ও মানিলন্ডারিং আইন—সবকটিই প্রযোজ্য হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, “ইচ্ছাকৃতভাবে বিনিয়োগ সংগ্রহ, প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ রাখা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রতারণার একটি প্যাটার্ন নির্দেশ করে।” এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে তদন্ত শুরু করে প্রাথমিকভাবে মালিকপক্ষকে তলব বা জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অন্তত কয়েক শ গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করা হয়েছিল; তবে তা ফেরত দেয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনেক ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বলেও জানা গেছে। প্রয়োজন হলে সম্মিলিত মামলা বা প্রতারণা মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন গ্রাহক।

