• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর ইন্তেকাল: ইসলামী উম্মাহর জন্য এক শূন্যতা 

     swadhinshomoy 
    03rd Mar 2026 3:28 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

    প্রখ্যাত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী আজ আমাদের মাঝে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। (০৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইসলামী সমাজে তার অবদান, শিক্ষা ও খ্যাতি চিরস্মরণীয়। তার চলে যাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির হারানো নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

    ত্যাগ ও অধ্যবসায়ের জীবন

    মাওলানার জীবন ছিল ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং ইসলামের প্রতি নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি কেবল একজন বক্তা নন, বরং কুরআন ও সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে সমাজ সংস্কারে নিবেদিত একজন সমাজসেবক ছিলেন। সারাদেশে ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে তিনি মানুষের মধ্যে ধর্মচর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছেন। তার বিশ্বাস ছিল, ইসলামী জীবনধারা কেবল আধ্যাত্মিক নয়; এটি সামাজিক, নৈতিক এবং মানসিক দিক থেকেও পূর্ণতা লাভ করে।

    প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

    মাওলানার জন্ম ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বারুদী গ্রামে। তার পরিবার ধর্মনিষ্ঠ ও শিক্ষিত। পিতা এবং পরিবারের ধর্মীয় পরিবেশ তাকে ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি অনুরক্ত করেছিল। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন নিজের গ্রামে। এরপর নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল (১৯৬৩) এবং আলিম (১৯৬৫) পাশ করেন।
    ১৯৬৭ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ কামিল মাদরাসা থেকে ফাজিল পাশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় আসেন। এখানে তিনি কামিল প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এই শিক্ষাজীবন ছিল শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, বরং ধ্যান, অধ্যবসায় এবং ইসলামী জ্ঞানের প্রতি আত্মনিয়োগের প্রতিফলন।

    বক্তৃতা ও সমাজসেবা

    মাওলানার বক্তৃতা সহজ, সরল এবং হৃদয়স্পর্শী। তিনি মানুষের মনে জাগাতেন ইসলামের মূলনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ধর্মের সংযোগ। তিনি দেখাতেন কিভাবে প্রার্থনা, ইবাদত এবং নৈতিক জীবন পারস্পরিক সম্পর্কিত। তার বক্তব্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতো সৎ কাজ, সহমর্মিতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য।
    ওয়াজ-নসিহতে তিনি সমাজের অসংগতি, যুবসমাজের অবিশ্বাস, মাদকাসক্তি এবং ধর্মহীন প্রবণতার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতেন। তার বাণী মানুষের মনকে ন্যায়পরায়ণতা, মানবিক সহমর্মিতা এবং দায়িত্বশীলতার দিকে দৃষ্টিপাত করাতো। যুবকরা তার বক্তৃতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও সৎ পথে পরিচালিত করতে পারত।

    নৈতিক ও শিক্ষাগত প্রভাব

    মাওলানার ব্যক্তিত্বে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ধর্মপ্রাণ মানুষ থেকে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাই তাকে সম্মান করতেন। তিনি যুবকদের নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার জীবন প্রমাণ করে, ধর্ম ও নৈতিকতা একসঙ্গে কাজ করলে সমাজে উন্নতি সম্ভব।
    তিনি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই অংশ নিতেন না, বরং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড, সমাজসেবা এবং সমাজ সংস্কারের প্রতিটি কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। তার বাণী মানুষকে সচেতনতা, মানবিক সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে উদ্বুদ্ধ করতো।

    ইসলামের বাস্তবায়ন

    মাওলানার শিক্ষা সহজ এবং বাস্তবসম্মত ছিল: ইসলাম কেবল আধ্যাত্মিকতা নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগযোগ্য। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নৈতিকতা, সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজে শান্তি এবং উন্নতি সম্ভব।
    তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য এবং মানুষকে নৈতিক ও সামাজিক উন্নতির পথে পরিচালিত করতে পারে। তার শিক্ষা আমাদের শেখায় কিভাবে মানবতা, ন্যায়, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার মাধ্যমে সমাজকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।

    শূন্যতা ও স্মৃতি

    মাওলানার ইন্তেকাল ইসলামী উম্মাহর জন্য একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। আমরা শুধু একজন বক্তা হারাইনি; একজন নৈতিক দিশারী, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারকও হারিয়েছি। তার জীবন, বাণী এবং শিক্ষা চিরস্মরণীয়। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যে শিক্ষা তিনি ছড়িয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

    মাওলানার জানাজা ০৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো মুসলিম উম্মাহ অংশগ্রহণ করে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যা আমাদের ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং সমাজ সংস্কারের প্রতি দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে।

    শিক্ষা ও বার্তা

    মাওলানার শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্ম কেবল আধ্যাত্মিকতা নয়, এটি সমাজ ও নৈতিকতার সেতুবন্ধন। তার বাণী আমাদের শেখায় কিভাবে মানুষের মধ্যে ন্যায়, সহমর্মিতা, দায়িত্বশীলতা ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাজকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।

    তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আমরা ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতা ছড়িয়ে দিতে পারি। এভাবে তার চিরস্মরণীয় অবদান বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার শিক্ষা থেকে উপকৃত হবে।
    মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী শরীরত আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার শিক্ষা, বাণী এবং কুরআন-সুন্নাহর আলো চিরকাল বেঁচে থাকবে। আমরা তার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে পারি।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    March 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    293031