অনুসন্ধানের প্রথম পর্ব
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর পশ্চিম মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে সাড়ে তিনটার সময় স্কুল বন্ধ করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্রপুর পশ্চিম মাঠপাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের যোগশাজসে সকল শিক্ষকগণ সাড়ে তিনটার মধ্যে ছুটি দিয়ে চলে যান। এই ধরনের অভিযোগ অনেক আগের থেকেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রয়েছে।
অনুসন্ধানের সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, ৩,৩০ মিনিটের দিকে প্রধান শিক্ষক তার মোটরসাইকেল স্কুল থেকে বের করে দাঁড়িয়ে আছেন, কিছুক্ষণ পর তিনি অফিসের ভিতরে যেয়ে ৩,৩৫ মিনিটে ছুটি দিয়ে এক এক করে সকল শিক্ষক স্কুল বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন। স্কুলের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন আমাদের সাড়ে তিনটায় ছুটি দিয়ে দেয়।
স্কুলের আশেপাশের এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকরা সাড়ে তিনটা বাজলেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যায়, আমরা এলাকাবাসী অনেকবার প্রধান শিক্ষকের সাথে এই বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু সে নাছর বান্ধা প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছায় স্কুল বন্ধ করে চলে যায়, সে এলাকার কারো কথা শুনেন না। নিজের ক্ষমতা দেখায়, কয়েকজন গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলে জানা যায়,তারা বলেন ভাই আমরা কি বলব আমাদের শিশুদের এই স্কুলে ভর্তি করে ভুল করেছি সাড়ে তিনটা বাজলেই আমাদের শিশুরা বাসায় চলে আসে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে স্যাররা আমাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে।
তারা আরো বলেন ভালো পড়াশোনা হবে বিদায় বাড়ির কাছে স্কুল তাই আমাদের বাচ্চাদের এই খানে ভর্তি করেছি, কিন্তু এই স্কুলে ভর্তি করে অনেক বড় ভুল করেছি, আগে যদি জানতাম যে এই স্কুলের লেখাপড়া এতোটা খারাপ তাহলে বাচ্চাদের ভর্তি করতাম না। পড়ালেখার মান একদমই খারাপ ভালো ভাবে শিক্ষকরা বাচ্চাদের পড়ালেখা করান না।
প্রধান শিক্ষকের সাথে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আজকেই আগে বন্ধ করেছি এর আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটে নাই আমরা ভুল করেছি এই ধরনের ভুল আর হবে না। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি এই ধরনের কাজ এর আগেও অনেক বার করেছেন তখন তিনি কোন কথা বলেন নাই।
প্রধান শিক্ষক সরকারি নিয়ম অমান্য করে দিনের পর দিন এভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যান। ট্যাংকিতে পানি উঠানোর জন্য মটর চালিয়ে রেখে চলে গেছেন। ট্যাংকি ভরে পানি বাহিরে পরে যেতে দেখা যায়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি তো আগে বের হয়ে গেছি সহকারী শিক্ষকদের বন্ধ করার কথা ছিল ভুল করে মটর চালিয়ে রেখে চলে গেছেন।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্কুলের টয়লেট পরিষ্কার করান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিসপত্রের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ও অভিযোগ করেন গার্ডিয়ানরা, তারা অভিযোগ করে বলেন এইটা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের তো কোনো টাকা দেওয়ার কথা নেই তার পরেও অনেকবার এটা ওটার কথা বলে আমাদের বাচ্চাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন শিক্ষকরা।
প্রধান শিক্ষকসহ সকল সহকারী শিক্ষকগণ স্কুল নিজেদের পাঠ্যশালা বানিয়ে রেখেছেন যা করেন নিজেদের ইচ্ছামত করে থাকেন। সরকারি কোন নিয়মই মেনে চলছেন না। ৩টার সময় মটর চালিয়ে রেখে চলে গেছেন, এলাকাবাসী বলেন যদি আপনারা না আসতেন তাহলে আগামীকাল সকালে এসে মটর বন্ধ করতেন সারা রাত এই মটর চলতেই থাকতো আর পানি অপচয় হতো এই ধরনের খামখেয়ালী কাজ শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা এলাকাবাসী আসা করি না। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন আপনারা চেষ্টা করে দেখুন তাদের কর্মকর্তাদের বলে সব শিক্ষকদের পরিবর্তন করে নতুন শিক্ষক দিতে পারেন কিনা যদি এনাদের পরিবর্তন করে দেয় তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক ভালোভাবে বাচ্চাদের লেখাপড়া হতো।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন স্কুল ৪,১৫ মিনিটের আগে বন্ধ করার কোন নিয়ম নেই যদি প্রধান শিক্ষক সাড়ে তিনটায় স্কুল বন্ধ করে সবাই চলে যেয়ে থাকেন তাহলে সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরেন্দ্রপুর পশ্চিম মাঠপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে দেখতে চোখ রাখুন।

