উখিয়া প্রতিনিধি: রেজাউল করিম
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতার দম্ভ ও সিন্ডিকেট রাজনীতির ভয়ংকর চিত্র আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আজ সেন্টমার্টিনে পূর্বঘোষিত নির্বাচনী পথসভায় অংশ নিতে গিয়ে স্পিডবোট সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটের শিকার হন।
অথচ একই রুটে এর আগে উখিয়া-টেকনাফের ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী অনায়াসেই দ্রুতগতির স্পিডবোটে ‘কেজিএফ স্টাইল’ ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু আজ দাড়িপাল্লার প্রার্থীর জন্য হঠাৎ করেই শাহ পরীর দ্বীপে “স্পিডবোট নেই”—এই অজুহাতে সৃষ্টি করা হয় কৃত্রিম সংকট। ফলশ্রুতিতে, অধ্যক্ষ আনোয়ারীকে বাধ্য হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ট্রলারে পাড়ি দিতে হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী মাঠে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করার একটি নোংরা কৌশল। স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণকারী একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ক্ষমতাসীন স্বার্থে কাজ করে বিরোধী প্রার্থীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে—যা সরাসরি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে অপমান করার শামিল।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাড়িপাল্লার প্রার্থীর নেতাকর্মীরা বলেন, “যারা শাহ পরীর দ্বীপে স্পিডবোট নাই বলে নাটক সাজিয়েছে, যারা নির্বাচনী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃত সংকট তৈরি করেছে—তাদের হীনমন্যতা ও নীচতা আজ জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। ক্ষমতার জোরে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা ইতিহাসে ভালোভাবে লেখা থাকবে।”
সব বাধা, ষড়যন্ত্র ও সিন্ডিকেটের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী সেন্টমার্টিনে পৌঁছে নির্ধারিত পথসভা করেন। সেখানে তিনি বলেন, “জনগণের ভালোবাসার পথে কোনো সিন্ডিকেট বাধা হতে পারে না। ইনশাআল্লাহ, এই জুলুম ও বৈষম্যের উপযুক্ত জবাব জনগণই ভোটের মাধ্যমে দেবে।”
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের কৃত্রিম সংকট ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বন্ধ না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা অবিলম্বে স্পিডবোট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

