নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নেছার আরং বাজারের টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে মোবাইল ফোনে বাকবিতণ্ডার একটি ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতবিনিময় ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৫ নং উপাধি উত্তর ইউনিয়নের নেছার আরং বাজারের টেন্ডারের সিডিউল জমা দেন সাবেক ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়াজী। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে টেন্ডার জমাকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে দুই পক্ষের মধ্যে মৌখিক বাকবিতণ্ডা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম কিরণ ও সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল শামীম মিয়াজীকে টেন্ডারটি না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং বিকল্প হিসেবে অন্য একটি বাজারের টেন্ডারে তাকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন। তবে শামীম মিয়াজী ওই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে মোবাইল ফোনে উত্তেজনাপূর্ণ কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাজারটি যদি তুলনামূলক কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হতো তবে সাধারণ জনগণ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হতেন। এ বিষয়ে কিছু ব্যবসায়ী ও দরদাতাদের সাথে আলোচনা করে কম মূল্যে বাজার ইজারা দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে শামীম মিয়াজী সেই প্রস্তাব না মেনে উচ্চমূল্যে বাজারটির ইজারা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ওই ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম কিরণের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে মুজাহিদুল ইসলাম কিরণ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল থেকে শুরু করে যুবদল ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “দলীয় কিছু কুচক্রী মহল মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দুর্বল করা এবং দলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”
মুজাহিদুল ইসলাম কিরণ আরও বলেন, “আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজনীতি করি। কোনো স্বৈরাচারী শক্তি বা দালাল চক্রের কাছে মাথা নত করবো না। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন মাঠে থেকে দলের জন্য কাজ করে যাবো, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, টেন্ডারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

