বিশেষ প্রতিনিধি
মোঃ তপছিল হাছান:
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে গভীর দ্বিধা, বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক টানাপোড়েন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কার নেতৃত্বে মাঠে নামবেন তারা, এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আদৌ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তৃণমূল পর্যায়ে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ওই ঘোষণায় চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এই ঘোষণার পরপরই চাঁদপুর বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয় তীব্র আলোচনা, সমালোচনা ও প্রশ্নের ঝড়। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মীর অভিযোগ, ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম.এ. শুক্কুর পাটোয়ারী এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদার মতো পরীক্ষিত, পরিচিত ও মাঠে সক্রিয় নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করেই হঠাৎ করে নব্য নেতৃত্ব সামনে আনা হয়েছে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এসব নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছেন। অথচ মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগকে কার্যত উপেক্ষা করায় তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট প্রশ্ন—দলের জন্য আজীবন ত্যাগ স্বীকার করা পরীক্ষিত নেতৃত্বের পক্ষে মাঠে নামবেন, নাকি ‘নব্য বিএনপি’ হিসেবে পরিচিতদের নেতৃত্বে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হবেন? এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির সাংগঠনিক ভিতকে কতটা দুর্বল করবে, তা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও ত্যাগী নেতাদের প্রতি ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা না গেলে চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দলের সামগ্রিক নির্বাচনী সম্ভাবনাই।

