সাভারে ডাকাত দলের ৯ সদস্য গ্রেফতার, এলাকায় চাঞ্চল্য
সাভারে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ডাকাত চক্রকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডাকাত চক্রের নয় সদস্যকে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ভোরে ডাকাতির চেষ্টার প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। এ ঘটনার সঙ্গে এক সাবেক বিএনপি নেতার নাম জড়িত থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ডাকাতির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নানা সূত্র আর পুলিশের তৎপরতায় এরপর ওই চক্রের মূল হোতা শাহ আলী ওরফে রাকিবসহ তার চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
বাকী সদস্যরা হলেন ঢাকা জেলার সাভার পৌরসভার রাজাশন গ্যারেজ এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোঃ সানি মিয়া (৩৫), বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া (৩২), একই এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে মোঃ রিপন মিয়া (৩৩), হানিফ মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা (৩১), সামাইর এলাকার চান মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (৩১), সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে সোহাবান মিয়া (২৩), একই ইউনিয়নের পূর্বহাটি এলাকার আবু মিয়ার ছেলে নুর নবী (২৭) ও হেমায়েতপুরের উত্তর মেটকা এলাকার হাছনের ছেলে ইমন মিয়া (২৫)।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোরে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গোল্ডস্টার গার্মেন্টস সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে অভিযান চালায় পুলিশের টহল দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জনের ডাকাতদল পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, ডাকাত চক্রের মূল হোতা শাহ আলী ওরফে রাকিব মৎস্যজীবী দলের সাবেক নেতা। মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার ওয়াইল গ্রামের তোতা মিয়া ওরফে পাখি কবিরাজের ছেলে রাকিব। সেই গ্রামের আলোচিত বাচ্চু ডাকাত (সম্পর্কে চাচা) গণপিটুনিতে নিহত হলে মানিকগঞ্জ ছেড়ে সাভারে চলে যান তিনি। এখানে এসেই বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে তাকে মেলামেশা করতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে দলীয় পরিচয় বদলালেও রাকিবের অপরাধী চরিত্র বদলায়নি।
ঢাকা জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান খান ইলিয়াস শাহী বলেন, শাহ আলী ওরফে রাকিব মৎসজীবী দলের কেউ না। যদি থেকেও থাকে, তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। দলে কোনো অপরাধীর স্থান নেই।

