শাল্লা(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মোঃ দিলুয়ার হোসেন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারের
নির্দেশ অমান্য করে ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও শাল্লা উপজেলায় এই বিধান মানছেন না অনেক দপ্তর। এছাড়াও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করার সহ কর্মকর্তা থেকে অফিস সহায়ক পর্যন্ত এই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখাচ্ছে।
সরজমিনে সোমবার (১০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শাল্লা উপজেলার অধিকাংশ অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। আবার একাধিক অফিস খোলা থাকলে কিন্তু লোকবল নেই। এর মধ্যে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, মহিলা বিষয়ক অফিস, খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস, সমবায় অফিস, মৎস্য কর্মকর্তার অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, পরিসংখ্যান অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। আবার , মাধ্যমিক অফিস খোলা থাকলেও কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদক অবস্থানকালীন সময় সকাল ১০ উপরে ঘড়ির কাটা বাজলে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ আসেন অফিসে। ৯টার সময় অফিসে আসার নির্দেশনা থাকলেও সঠিক সময়ে না আসার কারন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি।
সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে যুব উন্নয়ন ও সমবায় অফিসের তালা খুলা হয়। সমবায় অফিসের অফিস সহকারি স্বপন চক্রবর্তী জানান, অফিসে আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে। কর্মকর্তা কোথায় জানতে চাইলে বলেন, স্যার ছুটিতে গেছেন। যুব উন্নয়ন অফিসের স্টাফও একই কথা বলেন।
হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর নারায়ন বৈষ্ণবের কার্যালয়টি বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারি জানান নারায়ন দাস, এবিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে উনি এখনো আসেনি।
তবে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মুহিত প্রতি মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনদিন অফিস করেন। আর বাকী দিনগুলো তিনি সিলেটে থাকেন। এ বিষয়ে সবমায় কর্মকর্তা আব্দুল মুহিতের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সরকারের নির্দেশনা প্রত্যকটি সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারি আবশ্যিকভাবে সকাল ৯ টার মধ্যে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সরকারি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করবে। সরকারের নির্ধারিত সময়ে যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

