আল আমিন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা-তে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুট্টা চাষিরা। অল্প পরিশ্রম, কম খরচ এবং লাভ বেশি হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপজেলার কৃষকদের কাছে ভুট্টা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রতিবছরই বাড়ছিল ভুট্টা চাষের পরিমাণ।
কিন্তু ফাল্গুনের শেষ দিকে গত ১৪ মার্চ রাতে হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুট্টা ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অধিকাংশ ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেতেই অপরিপক্ক ভুট্টা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই কমে যাওয়ায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম পানিতে উৎপাদনযোগ্য রবিশস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছিল। ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে অনেক কৃষকই এই ফসলে ঝুঁকেছিলেন।
তবে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ৫ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে অধিকাংশ ভুট্টা গাছ ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, “এখন যদি আরও বাতাস হয় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবো কীভাবে, সেটাই ভাবছি।”
নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, এই ক্ষতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে বর্গাচাষিদের ওপর। তিনি বলেন, “সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা না দেয়, তাহলে অনেকেই পথে বসতে বাধ্য হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ১০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

