ষ্টাফরির্পোটারঃ ইলিয়াস আলী মাসুক।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার উত্তর দেয়াং ভেল্লাপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে পার্শ্ববর্তী এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান মোহাম্মদ বখতিয়ার হোসেন।
নুরুল আলম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, বখতিয়ার হোসেন তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এক ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনায় নুরুল আলমসহ ওই এলাকার কয়েকজন মারাত্মক ও গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী জানান, বখতিয়ার বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডারদের চাঁদা না দিলে বর্তমানে ওই এলাকায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এরূপ অতর্কিত হামলা ও তাণ্ডবে বর্তমানে ওই এলাকার অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বখতিয়ার বাহিনীর লোকজন সর্বক্ষণ দেশীয় মারাত্মক মরণাস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এ বাহিনীর নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বলে মনে করেন।
ঘটনার বিবরণে ও প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বখতিয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন। কোনো কারণ ছাড়াই তারা সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া এবং হামলার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, যা এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সন্ত্রাসীদের এই অতর্কিত হামলায় নুরুল আলমসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ নিরীহ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে আহতরা চট্টগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এহামলার পর থেকে এলাকার নারী ও শিশুদের মধ্যে চরম আতংকে কাজ করছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন, আবার অনেকেই বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংযুক্তসহ থানায় অভিযোগ ও জিডি দায়ের করা হইলে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে । একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আশানুরূপ কোন সাড়া না পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর। অপর দিকে অপরাধীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেরাচ্ছে এবিষয়ে তাদের গ্রেফতারে পুলিশের নেই কোন তৎপরতা। সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আইনের প্রতি। এলাকাবাসীর ৩ দফা দাবি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছে এবিষয়ে তাদের তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন: ১.সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ২.নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারে কেন বিলম্ব হচ্ছে এবং প্রশাসনের কেউ এর পেছনে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা। ৩.স্থায়ী নিরাপত্তা: এলাকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি টহল অথবা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা।
একটি সভ্য সমাজে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

