স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে চলমান একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অধিগ্রহণ, অপ্রয়োজনীয় রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং অযৌক্তিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলজিইডির অধীনে বর্তমানে তিনটি সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে—
১. তেঘরিয়া থেকে মোল্লারহাট সড়ক
২. ইকুরিয়া থেকে জিন্দা পীরের মাজার সড়ক
৩. বনগ্রাম বাজার থেকে জিন্দা পীরের মাজার রোডের আরাকুল পয়েন্ট হয়ে মজিদ বেয়ারার মৌজার সংযোগ সড়ক
৭০ ফুট সড়ক নির্মাণে আপত্তি স্থানীয়দের
জানা গেছে, বনগ্রাম বাজার থেকে ইকুরিয়া-জিন্দা পীরের মাজার সংযোগ সড়কের একটি ৭২৫ মিটার অংশকে ৭০ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ এটি একটি গ্রামীণ সড়ক, যেখানে মূলত রিকশা-ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের দুই পাশে বহু বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি মন্দির রয়েছে। তাদের মতে, সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়কই যথেষ্ট। এর বেশি প্রশস্ত করার প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে কাছেই তেঘরিয়া-ইকুরিয়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থাকা সত্ত্বেও।
ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে তার জমির ১০ শতাংশ অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হলেও পরে প্রভাব খাটিয়ে পুরো ১৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পাশের জমি বাদ দিয়ে তার সম্পত্তির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের সময় তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে কিছু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরে রেখে, অন্যদের বসতভিটা ও ধর্মীয় স্থাপনা অধিগ্রহণের আওতায় এনেছেন।
অপ্রয়োজনীয় ‘সাইড অফিস’ নির্মাণের পরিকল্পনা
তেঘরিয়া-মোল্লারহাট সড়কের শাওরাইল মৌজায় একাধিক দাগের জমি অতিরিক্তভাবে অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে একটি তথাকথিত ‘সাইড অফিস’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা জনস্বার্থে কোনো কাজে আসবে না।
ফসলি জমি নষ্ট করে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষতিপূরণ ছাড়া কাজ চলার অভিযোগ
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি এখনও প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় ভূমি দখল করে কাজ শুরু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ক্ষতিপূরণ আদৌ পাবেন কি না।
আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন
ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জনস্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণ করা গেলেও ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক। ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ব্যবহার আইনত বৈধ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগীদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সঠিক তদন্ত হলে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বস্তি পাবে, অন্যদিকে সরকারের শত কোটি টাকার অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।

