কে,এম,জাকির
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি | ০৬ মে, ২০২৬
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সায়দাবাদ এলাকায় জিনজিরাম নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)। গতকালের এই পরিদর্শন কেবল একটি সরকারি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অবহেলিত রৌমারীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা ‘রাবার ড্রাম ব্রিজ’ প্রকল্পটি যেন এই সেতুর মাধ্যমে নতুন প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। এমপি মোস্তাকের এই পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। প্রস্তাবিত এই সেতুটি নির্মিত হলে কেবল যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না, বরং এটি সায়দাবাদ ও খেয়ারচর অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জিনজিরাম নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। খেয়ারচরের বাসিন্দা আক্কাস আলী জানান, রাবার ড্রামের দক্ষিণ পাশ থেকে বিক্রিবিল পর্যন্ত নদীর দৃশ্য এবং রাস্তার দু’ধারের সবুজ প্রকৃতি যেকোনো পর্যটকের মন জুড়িয়ে দেওয়ার মতো। স্থানীয় যুবক মোঃ শাকিল বলেন, খেয়ারচর রাবার ড্রাম থেকে সায়দাবাদ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের সারি সারি গাছ আর নদীর বয়ে চলা এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করে।মোঃ ইরফান আলীর মতে, এই এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দোকানপাট ও ছোট ব্যবসার প্রসার ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। ইতিহাসের পাতা থেকে উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রুহুল আমিন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান (বঙ্গবাসী) ৮৫.০০ মিটার দীর্ঘ এই রাবার ড্রাম প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল এলাকাবাসী পায়নি। বর্তমান সংসদ সদস্যের সক্রিয় হস্তক্ষেপে সেই স্থবিরতা কাটবে বলে এখন সবার বিশ্বাস। এলাকাবাসীর দাবি
রৌমারীর মানুষের এখন একটাই দাবি— রাবার ড্রাম এলাকাকে আনুষ্ঠানিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা। জিনজিরাম নদীর নান্দনিকতা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, রৌমারীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিশাপ ঘুচবে এবং পর্যটনের হাত ধরে আসবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টিই এখন এই স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি।

