বিশেষ প্রতিনিধি:সুবির ঘোষ
মাগুরা শালিখা উপজেলায় সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের দেড় কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও শ্রীহট্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি ২০১৯ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১৫ লাখ টাকা ক্যাশ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ১২ লাখ টাকার লোকসানে চলছিল এবং একজন কর্মকর্তা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমানে ক্যাশ ও জমি মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি টাকার উপরে।
দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জমি কেনা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, প্রতিষ্ঠানের ১২তম বার্ষিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিরাপদ ও লাভবান বিনিয়োগ হিসেবে তহবিলের নগদ টাকা দিয়ে জমি ক্রয়ের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সমবায় আইন মেনে এবং নির্বাহী কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমেই দেড় কোটি টাকা মূল্যে মোট ২ একর ১ শতক জমি ক্রয় করা হয়েছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, জমিগুলো প্রতিষ্ঠানের নামে সুরক্ষিত রাখতে সাময়িকভাবে তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করা হলেও একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করা হয়েছে। ওই অঙ্গীকারনামায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, উক্ত সম্পদে তাঁর বা তাঁর ওয়ারিশদের কোনো ব্যক্তিগত দাবি থাকবে না এবং সম্পদের সম্পূর্ণ মালিকানা কেবল প্রতিষ্ঠানেরই থাকবে।
অঙ্গীকারনামার তথ্য অনুযায়ী ক্রয়কৃত জমির বিবরণ: ১৬ জুন ২০২৫: আড়পাড়া মৌজায় ২৩ শতক ও ৩৫ শতক (মোট ৫৮ শতক), ১১ মার্চ ২০২৬: আড়পাড়া মৌজায় ৪০.৫ শতক,
৫ এপ্রিল ২০২৬: হাজরাহাটি মৌজায় ৬০ শতক
৪ আগস্ট ২০২৬: পোড়াগাছি মৌজায় ৪২ শতক,
সর্বমোট ২ একর ১ শতক জমির মূল ও প্রকৃত মালিক শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং কোনো ধরনের আর্থিক তসরুপ হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ় দাবি ব্যক্ত করেন।

