swadhinshomoy
01st Sep 2025 1:38 pm | অনলাইন সংস্করণ Print
মোহাম্মদ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুন গঞ্জ অবস্থিত। মসলা জাতীয় পাইকারি বাজারের আড়ত বৃহত্তম চাউলের আড়ত দেশের বৃহত্তম শুটকির আড়ত এখানে রয়েছে এবং এখান থেকে সারাদেশের ব্যবসায়ীরা পাইকারি দামে পণ্যসমূহ ক্রয় করে থাকে।
দেশের প্রধান এবং বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামে হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে খাতুনগঞ্জ আসে। চট্টগ্রামের স্বনামধন্য বড় বড় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য এনে খাতুনগঞ্জ আড়তে এনে গুদামজাত করে। প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয় এখানে। লক্ষাধিক শ্রমিকের সমন্বয়ে এখানে মালামাল উঠানামা হয় প্রতিদিন। রাত দিন সমান তালে পণ্য উঠানামা হয় এখানে। দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার হওয়ায় শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সরকার এখান থেকে।
খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারের বিশেষত যে সকল পণ্য আমদানি করা হয় সকল প্রকারের মসলা জাতীয় পণ্য তেল পেঁয়াজ রসুন আদা ছোলা বাদাম সহ বিভিন্ন প্রকারের ভোগ্য পণ্যের বিশাল সমাহার হল এ বাজারে। এই পাইকারি বাজারের সাথে জড়িত রয়েছে পরিবহন ব্যবসা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দেশের মানুষের খাদ্যের প্রায় সকল পণ্য খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার থেকে সরবরাহ করা হয়।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান এখানে একদিন মাল ওঠা নামা বন্ধ থাকলে সারা দেশে হাহাকার উঠে যাবে। মূল্য দ্বিগুণ হয়ে যাবে সকল পণ্যের। নানা অসঙ্গতির মধ্যেও দেশের বৃহত্তম এ বাজারে হাজার হাজার ব্যবসায়ী তাদের শ্রম ও মেধা দিয়ে ঠিকিয়ে রেখেছে সকল ধরনের ব্যবসা।
একটি আড়তে মালামাল উঠান আমার কাজে নিয়োজিত আব্দুস শুকুর নামের এক শ্রমিক বলেন এই পাইকারি বাজারে প্রতিদিন কাজ করে আমার সংসার চলে। তিন সন্তান এক স্ত্রী ও মা বাবা নিয়ে আব্দুর শুক্কুরের সংসার প্রতিদিন ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা ইনকাম করে সে বাড়ি ফিরে। এখান থেকে আয় করে তার সংসার ভালোই চলে যাচ্ছে বলে সে জানায়। এরকম হাজার হাজার শ্রমিক মালামাল উঠানামা করে তাদের পরিবার চালায়।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার। এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও বাজারের উন্নয়নে এমন কোন কাজ করছেনা সিটি কর্পোরেশন এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিম্নমানের হওয়ায় বেশিরভাগ সময় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় অনেক দোকানের মালামাল। চট্টগ্রাম মহানগরীতে বন্যা সৃষ্টি হলে এ পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের চিন্তায় পড়ে যেতে হয় কারণ বাজারে বন্যার সৃষ্টি হয়ে দোকানগুলোতে পানি প্রবেশ করে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম মহানগর এর আধুনিক জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বৃহত্তম এ পাইকারি বাজারে বন্যার পানি ঢুকবে না বলে জানান জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক। চাক্তাই এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে আধুনিক সুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সাথে মিল রেখে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই সুইচগেট গুলা উপযুক্ত ব্যবহার হবে। মূলত খাতুনগঞ্জ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করার জন্য এখানের সংশ্লিষ্ট সকলে আহ্বান জানান।
উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের
+88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

