মজিদ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নে ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ও নিন্দনীয় ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভগতগাজি বাজার এলাকা থেকে এক তরুণ-তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান ইউনিয়নের বর্তমান পরিষদের সদস্য মো. ফারুক হোসেন। পরে তাদের নিজ বাসায় আটকে রেখে পরিবারের সঙ্গে আপস-সমঝোতার নামে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, অবশেষে আড়াই লক্ষ টাকা প্রদানের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির ‘সমাধান’ করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টার দিকে উক্ত তরুণ-তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে এনে মেম্বার ফারুক হোসেন নিজ বাড়িতে আটক করেন। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে চাপে ফেলা হয় মোটা অঙ্কের টাকার জন্য। পরিবার টাকা দিতে অসম্মতি জানালে তাদের উপস্থিতিতেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। সমাধান না হওয়ায় তরুণ-তরুণীকে পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর সারাদিন ঘরে আটকে রেখে পুনরায় নির্যাতন করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, “তরুণ-তরুণীকে আটকে রাখার সময় অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এরপর পরিবারকে বলা হয়, সামাজিক মর্যাদা বাঁচাতে হলে টাকা দিয়ে মীমাংসা করতে হবে।” এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মুসতাকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি ঘটনাটি জানি না। ফারুক হোসেন একজন বেয়াদপ মানুষ, তার ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না।” দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারেয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মন্তব্য করেন, “মামলা হলে পুলিশ বিষয়টি দেখবে।” তবে ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। জেলা পুলিশ সুপারকেও ফোনে পাওয়া গেলে তিনি অন্য কাজে ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা জাপান নামের এক ব্যক্তি বলেন, “মেম্বার ফারুক এর আগেও একাধিকবার এমন কাজ করেছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অন্যায় করেই যাচ্ছেন। প্রশাসন কিছু করতে পারে না।” পাশের বাড়ির আরেকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তার এহেন কর্মকাণ্ডে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে লজ্জা পাই।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা এনপিএস-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব আজাহার রাজা বলেন, “ঘটনাটি সত্য এবং নিন্দনীয়। এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসনের নীরবতা রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক। এমন ঘটনা বিচারহীন থেকে গেলে জনগণের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হবে এবং অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায় করা যে গুরুতর অপরাধ, তা সবাই জানে। কিন্তু আমরা ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছি না।”
ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “অপরাধীরা টাকা দিয়ে পার পেলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।”

