গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ থেকেঃ
নওগাঁর সদরসহ ১১ উপজেলা ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ধান খেতসহ শব্জী আবাদ।গত দুদিনের অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে আমন ধান খেত এবং আলু ও বিভিন্ন শব্জী চাষের জমিতে হাঁটু পানি জমে গেছে।৩১ অক্টোবর শুক্রবার থেকে ১ নভেম্বর শনিবার বিকেল পর্যন্ত চলমান বৃষ্টি ও হালকা বাতাসে জেলার ১১ উপজেলার হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ধান মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে তলিয়ে গেছে।সেই সঙ্গে চলতি মৌসুমে রোপণকৃত আলু ও বিভিন্ন শব্জী চাষের জমিতে পানি জমে থাকায় জেলার চাষিরা চরম বেকায়দায় পড়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায়, জেলার ৪৫ হাজার ৩ শ” ৫০ হাজার হেক্টর স্বর্ণা- আমন ধান, ৪৭০ হেক্টর আলু ও ৫৬০ হেক্টর রোপণকৃত বিভিন্ন শব্জী চাষের জমি গত দুদিনের অবিরাব ভারি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।আমন ধান রোপনে লক্ষমাত্রা শতভাগ নিশ্চিত হলেও এ পর্যন্ত আলু ও শব্জী চাষে শতভাগ রোপণ অর্জন হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ওই সুত্রটি নিশ্চিত করেছে।জেলার মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম,আফসার আলী ও নুরনবী মন্ডল জানান, দুদিনের ভারি বৃষ্টিতে মাঠে জমে থাকা পানিতে বাতাসে আধা পাকা আমন ধান পড়ে যাওয়ায় ধানের উপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আসংস্কা করা হচ্ছে। উপজেলার হাতুড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান,তার ইউনিয়নে হাজার হাজার বিঘা জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে আমন ধান বাতাসে পরে পানিতে তলিয়ে গেছে। আধা-পাকা আমন ধান দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকলে ফলন বিপর্যয় ঘটতে পারে। এছাড়াও চাষিরা রোপণকৃত আলু ও শব্জী চাষেও ব্যাপক ক্ষতির আসংস্কা করছে বলে ওই চেয়ারম্যান জানান।তবে ফলন বিপর্যয়ের আসংস্কা নাকচ করে দিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বিএস জানান,দুদিনের এ ভারি বৃষ্টির ফলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ১১ উপজেলার কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে স্বর্ণা-৫ আমন ধান, রোপণকৃত আলু ও বিভিন্ন শব্জীর কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এর একটি তালিকা চাওয়া হয়।সুত্রমতে উপজেলা কৃষি অফিসারদের দেয়া ওই তালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।তবে এ সহায়তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করবে বলে ওই সুত্রটি জানান

