রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতাঃ
রায়গঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই বাকি। কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের মধ্যভাগে রয়েছে কাজ, পুরোপুরি শেষ হতে আরও বেশ কিছু দিন সময় লাগবে। এমতঅবস্থায় বাজারে ধানের কম দাম নিয়ে তারা আরও বেশি উদ্বিগ্ন।
সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় চান্দাইকোনা, পাঙ্গাসি, ঘুরকা, ধান গড়া, নিমগাছী হাটসহ আরও কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে জানাগেছে, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা দরে, যা ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।
উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম তোতা (৫৩) বলেন, এখনো আমাদের অনেক জমির ধান কাটতে বাকি। শ্রমিক ও সারের দাম অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে দাম শুনলেই বুক ভেঙে যায়। মণপ্রতি ১,০০০ টাকায় ধান বিক্রি করলে লোকসান ছাড়া আর কিছু থাকে না।
সোনাকান্দর গ্রামের কৃষক ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতো (৬৫) বলেন, সরকার দরে ধান কেনে খুব অল্প পরিমাণে। আর বাজারে দালালরা কম দামে কিনে নিচ্ছে। এখনো অনেক ধান কাটতে বাকি- যদি দাম আরও কমে, তাহলে বড় বিপদে পড়বো। রাতদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে ধানের সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু বিনিয়োগে নগদের সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।
নিমগাছী বাজারের ধান ব্যবসায়ী মোঃ সাগর হোসেন বলেন , ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কঠিন হয়ে গেছে। মিলগুলোও ধান কম কিনছে। তাই আমরা বেশি দামে ধান কেনার অবস্থায় নেই।”সরবরাহ বাড়ছে। কিন্তু নগদ অর্থ সংকটের কারনে দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, এখনো উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস নজর রাখছে । কৃষকরা যাতে ক্রয়কেন্দ্রে ধান দিতে পারেন, সে বিষয়েও আমরা নজরদারি করছি।
কৃষকদের অভিযোগ- সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের নগদ সংকট সব মিলিয়ে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এভাবে দাম কম থাকলে ধান কাটা শেষ হতে হতেই আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আগামী মৌসুমে চাষ করতে অনেকেই সাহস পাবে না।’

