• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • কুলাউড়ায় শিশু শিক্ষার্থীর সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নয়-ছয় 

     swadhinshomoy 
    01st Jan 2026 3:26 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের ১৯নং দিলদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীর সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের উত্তরপত্র নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে দুই শিক্ষক একে-অপরের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হওয়ায় অভিভাবকসহ এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবং শিক্ষকদের দ্বারা যদি এমন কর্মকাণ্ড ঘটে তখন শিক্ষার্থীদের অধ্যায়ের বিষয়ে সন্দিহান অভিভাবকরা।

    তথ্যানুসারে বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া (তিন বিষয়ে ১৪৯ নম্বর) পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহা (তিন বিষয়ে ১৪৭ নম্বর) পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

    এদিকে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহার পিতা সিরাজুল ইসলাম স্বপন বিদ্যালয়ে মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর দেখার জন্য প্রধান শিক্ষকের নিকট আবেদন করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক নম্বর সম্ভলিত রেজিষ্ট্রার খাতা বের করে দেখতে পান যে, ফাহিয়া ইসলাম মানহার প্রাপ্ত নম্বরে কাটাছেড়া করা নম্বরের স্থানে। মানহার ইংরেজী বিষয়ে ৫০ এর স্থলে ৪৭ নাম্বার করে মোট প্রাপ্ত নম্বর ১৫০ এর স্থলে ওভারাইট করে ১৪৭ করে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রধান শিক্ষক ইংরেজী উত্তরপত্র দেখতে সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম ও নাজিয়া বেগমকে বলেন। কিন্তু সকল শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র গচ্ছিত থাকলেও ফাহিয়া ইসলাম মানহার ইংরেজী বিষয়ের উত্তরপত্রটি মিলেনি। এতেই সন্দেহে সৃষ্টি ও নয়-ছয়ের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাফিয়া বেগম প্রথম শ্রেণীর ইংরেজী উত্তরপত্র দেখেন এবং নম্বর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফাহিয়া ইসলাম মানহা ইংরেজী বিষয়ে ৫০ নম্বর পেয়েছে। তিনি সকল উত্তরপত্র স্কুলে জমাও দিয়েছেন। উত্তরপত্র দেখেই রেজিষ্ট্রার খাতায় নম্বর তুলেছেন শিক্ষক আব্দুল হাকিম এবং নাজিয়া বেগম।

    শিশু শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহার পিতা সিরাজুল ইসলাম স্বপন জানান, আমার মেয়েকে প্রথম থেকে দ্বিতীয় স্থানে নেওয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইংরেজী উত্তরপত্রটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি খবর নিয়ে জেনেছি- আমার মেয়ে ইংরেজীতে ৫০ নম্বর পেয়েছে। তাকে দ্বিতীয় বানানোর জন্য রেজিষ্ট্রার খাতায় নয়-ছয় করে ৫০ এর স্থলে ৪৭ লেখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাবেন বলেও জানান।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মইনুল ইসলাম, জাবেদ, ওয়াসিম, ঝন্টুসহ অনেকেই জানান, এসব-তো সামান্য নয়-ছয়, এরচেয়েও ভয়ানক নয়-ছয় করা হচ্ছে এখানে। তাদের দাবী-এই বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং লেখা-পড়ার মানোন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে হলে স্থানীয় বাসিন্দা সহকারী শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করতে হবে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিফতাউল ইসলাম জানান, ক্লাস শিক্ষক সাফিয়া বেগম উত্তরপত্র জমা দিয়েছেন এবং রেজিষ্ট্রার খাতায় নম্বর তুলেছেন সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম এবং নাজিয়া বেগম। রেজিষ্ট্রার খাতায় অভারাইট দেখে এবং অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরপত্রটি খুঁজতে গেলে আর পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩০ মিনিটেই উত্তরপত্রটি গায়েব হয়ে যায়। যা আমার চাকুরীজীবনে এই প্রথম। বিষয়টি তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছেন।

    এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। উত্তরপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এটি একটি রহস্যময় কাজ! আমি দ্রুতই সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধান করবো।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    S M T W T F S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031