বিশেষ প্রতিনিধ মোঃ তপছিল হাছান
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত ইটভাটার দৌরাত্ম্যে মারাত্মক পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে জনজীবন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে জনবসতি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নির্বিঘ্নে চলছে এসব ইটভাটা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ–রামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে অবস্থিত একাধিক ইটভাটায় কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত তেল, গাছের ভুসি ও কাঠের গুঁড়া। এমনকি কোথাও কোথাও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক জ্বালানি বিউটেন (বুটাম) ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা আরও জানান, ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে বায়ু। এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ধোঁয়ার প্রভাবে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বছরের অধিকাংশ সময় এসব ইটভাটা চালু থাকায় পরিবেশ বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালানো হলে হাজীগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম সংকটে পড়বে। তারা অবিলম্বে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

