মোঃ নাজিম উদ্দিন, মেঘনা (কুমিল্লা)
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার (১ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মানিকারচর ইউনিয়নের মাতবরকান্দি গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ রুবেল শিকদার গুরুতর আহত অবস্থায় মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করেন এবং দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। স্বজনদের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা না করায় পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রুবেলের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তিনি ১৪ ও ৭ বছর বয়সী দুটি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোখলেছুর রহমান বলেন: “হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম থাকলেও সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে না। চিকিৎসকরা সরাসরি রোগী না দেখে প্রায়ই কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করান। এছাড়া হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এক্স-রে বা রক্ত পরীক্ষার মতো সাধারণ কাজগুলোও হাসপাতাল থেকে না করে বাইরের ক্লিনিকে পাঠাতে বাধ্য করা হয়।”
আরেক বক্তা মোঃ দিদার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াই রোগীকে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এই মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
মানববন্ধন থেকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হবে। দাবিগুলো হলো:- অবহেলায় দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
হাসপাতালেই সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করা।
মুমূর্ষু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তবেই রেফার করা।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও মান উন্নয়ন।
নারী রোগীদের জন্য সার্বক্ষণিক গাইনি চিকিৎসক নিশ্চিত করা।
সরকারি ওষুধ রোগীদের সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া।
রোগীদের সঙ্গে মানবিক ও পেশাদার আচরণ করা।
সার্বক্ষণিক অন্তত একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
সেবার মান তদারকিতে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়মা রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স তাকে পাওয়া যায়নি।

