নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানীর আলোচিত ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল-এর বিরুদ্ধে কোটি টাকার লুটপাট ও প্রতারণার মামলায় ঢাকা মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে জানা যায়, ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনালের উচ্চপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও মালিকপক্ষ মিলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশগামী সাধারণ মানুষ, প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের কাছ থেকে টিকিট প্রসেসিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রাহকদের অনেকেই জানিয়েছেন, টাকা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বারবার তারিখ পিছিয়ে দিতেন এবং পরে অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যান।ফ্লাই ফারের এই প্রতারণার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ২০ অক্টোবর ২০২৫ শুনানি শেষে পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ,এই মামলার সকল তথ্য জিডি কপি আমাদের কাছে রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, বিদেশি রেমিট্যান্স ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক বিবরণী খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়েও বিবেচনা চলছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মামলায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ফৌজদারি আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। অনেকেই মনে করছেন, ফ্লাই ফারের পেছনে একটি ট্রাভেল এজেন্সি জড়িত যার নাম ডায়নামিক ট্রাভেল। এই ঘটনার সাথে ডায়নামিক ট্রাভেলস সরাসরি জড়িত।এই বিষয় নিয়ে ডায়নামিক ট্রাভেলসকে বার বার ফোন দিয়েও পাওয়া যায় নি। অনেক বার যোগাযোগ করার পর আমরা ব্যর্থ হয়েছি , তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে। উল্লেখ্য, ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে এর আগে প্রতারণা ও জালিয়াতির একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। গত বছরও একই ধরনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে নতুন মামলায় অভিযুক্তরা আগের তুলনায় আরও বড় আকারে প্রতারণা চালিয়ে দেশের ট্রাভেল ও রিক্রুটিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এখন পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে যেন প্রকৃত দোষীরা চিহ্নিত হয়, সেটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।” তারা আরও বলেন, “যারা আমাদের জীবনের সঞ্চয় লুটে নিয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই প্রভাব খাটিয়ে পার না পায়— এজন্য সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

