মো রাজু আহমেদ(রাজশাহী) জেলা প্রতিনিধি:
তানোরে প্রবাসীর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী কন্যাকে অপহরণের পর গ্রাম্য সালিশে রফাদফার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারী বিপুল উপজেলার বনকেশর ব্রিজঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং অমৃতপুর গ্রামের লিটনের ছেলে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বখাটে বিপুল দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় পথেঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি অনেক আগেই বিপুলের পরিবারকে জানানো হয়। ৫ জানুয়ারি সকালে এলাকার শফিকুল ওরফে বাদলের সহযোগিতায় বিপুল কিশোরীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তারা দুদিন দুই রাত আত্মগোপনে থাকে। কিন্তু থানায় অভিযোগ করার পর থেকেই তা তুলে নিতে বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া শুরু করে বিপুলের পরিবার। এরপর ৭ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম মোল্লার উদ্যোগে কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে তার বাসভবনে একটি সালিশ বৈঠক বসান। সেখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মামলা না করার মুচলেকা নিয়ে কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবককে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ কি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসাযোগ্য? তিনদিন ধরে কিশোরী অভিযুক্তের সঙ্গে থাকার দায়ভারই বা কার? কারণ ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বিধ্বস্ত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরীর এক স্বজন বলেন, তারা পরিস্থিতির শিকার এবং সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হয়েছেন। কিশোরীর সঙ্গে ওই যুবক দুদিন আত্মগোপনে ছিল। অবশ্যই তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে, তাহলে এর দায় কে নেবে? তারা এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন বা সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে, এ নিয়ে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, এটি আনুষ্ঠানিক সালিশ নয়। দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়াভাবে বসে কেউ মামলা করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে মেয়েটিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। থানার ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ নয়, বিষয়টি নিয়ে হারানো জিডি করা হয়েছে। এরপরও কেউ অপহরণের অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

