এইচ এম সাগর (হিরামন) :
খুলনার বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পার পটিয়াঘাটা, হেতালবুনিয়া, মাইলমালা, বটতলা, রায়পুর, টাকিমারি, ফুলবাড়ী স্থানে রাস্তার ভয়াবহ চিত্র। এসব এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে সামান্য অসতর্কতায় উল্টে যাচ্ছে যানবাহন। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব গর্ত দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও যানবাহন চালকদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীবাহী যান ও শিক্ষার্থী সহ ব্যবসায়ীদের বহনকারী যানও এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। খুলনার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই খুলনার বটিয়াঘাটা পাইকগাছা দারুনমল্লিক সড়কটি। যা মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রায়পুর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহাবুউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এলাকার বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ভাই কি বলবো রাস্তা তো নয়, যেন মরণ ফাদ। প্রতিদিনই এই রাস্তায় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। মাঝেমধ্যে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কিছু সংস্কার করে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু দিনের মধ্যে সেই ইট হারিয়ে যায়। পুনরায় খানা গর্তে পরিণত হয় সড়কটি। এলাকাবাসীর দাবি,জরুরি ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা-পাইকগাছা সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পায়। গতকাল রবিবার উক্ত সড়কের রায়পুর ক্লাব সংলগ্ন মিজান শেখের বাড়ির সামনে বালুবাহী একটি টমটম গাড়ি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়। আহত হয় চালকসহ দুজন হেলপার। এভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রায়পুর দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোঃ আহাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় আসছে অনেক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা অনেক ভয়ানক অবস্থা ধারণ করেছে। রায়পুর মসজিদের পাশে সড়কটি ভেঙে পুকুরের ভিতরে চলে যাচ্ছে। তার কিছু দুরে রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ।
সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন লিটু বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ছোটখাটো কিছু না কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাসের বাণী শোনান। খুলনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন,অধিকাংশ রাস্তা আমরা সংস্কার করেছি। মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। অতিসত্তার সেটা সংস্কার করা হবে।

