মোঃ মিজানুর রহমান চরফ্যাসন(ভোলা) প্রতিনিধিঃ
ভোলার চরফ্যাশনে চাঁদা না দেওয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাদের ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরমানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া গ্রামে নাসির মুন্সির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষ বাবুলের লোকজন এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ।
হামলায় আহতরা হলেন- মো. নাসির মুন্সি (৬০) ও তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৫৫), পুত্রবধূ অন্তঃসত্ত্বা রিনা বেগম (২৬), অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে আছমা বেগম (৩৫) ও ছেলে সালাউদ্দিন (৩০)। গুরুতর আহত হয়ে তারা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
হামলাকারীরা হলেন- মো. মোস্তফা মুন্সির ছেলে মো. বাবুল (৪০) ও তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম (৩৮), তার ছেলে সোহাগ (৩০) ও মা আনোয়রা বেগম (৫৮)।
হাসপাতলে চিকিৎসাধীন নাসির মুন্সি বলেন, আওয়ামী লীগ পতনের পর বাবুল মুন্সি আমাদের আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যায়িত করে এবং নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে। সম্প্রতি আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বুধবার সকালে ছেলে সালাউদ্দিন গাছের নারিকেল পাড়তে গেলে তাকে একা পেয়ে হামলা ও মারধর করেন। পরে তার চিৎকারে আমি, ছেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিনা বেগম, আমার মেয়ে আছমা বেগম ও আমার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ বাবুলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনে মিলে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করেন। এরপর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে জমি কেনার জন্য রাখা ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রওনা হলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মোড়ে দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করেন বাবুলের লোকজন। সেখানে আমাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন তারা। আমরা গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, মারপিটের ঘটনায় দুই অন্তঃসত্তা নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছি।
অভিযুক্ত বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক ভুঁইয়া বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

