আশুলিয়া প্রতিনিধি : শরিফ মিয়া
মেডলার অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে হঠাৎ চাকরি হারানোর অভিযোগ
তুলেছেন রাজধানীর অদূরে অবস্থিত মেডলার অ্যাপারেলস লিমিটেডের কয়েকশ শ্রমিক।
পূর্বে কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘ সময় মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল—“চাকরি ফিরিয়ে দাও”, “অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ করো”, “বকেয়া বেতন পরিশোধ করো” ইত্যাদি।
এসময় শ্রমিকরা স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখিরত করে তোলেন এবং দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানান।শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের আগে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটি ঘোষণা করে এবং ছুটি শেষে যথারীতি কাজে যোগ দিতে বলা হয়।
কিন্তু ছুটি শেষে নির্ধারিত দিনে কারখানায় এসে তারা দেখতে পান, গেটে ২০০ শ্রমিকের নাম পদবী ও আইডি নাম্বার সহ ছবি ঝুলছে এবং প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে জানতে পারেন, অনেক শ্রমিকের নাম কর্মতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা হতবাক হয়ে পড়েন।
একজন ভুক্তভোগী শ্রমিক বলেন, “আমরা বছরের পর বছর এখানে কাজ করেছি। ঈদের আগে পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। হঠাৎ করে ঈদের পরে এসে শুনি আমাদের চাকরি নেই! কোনো চিঠি নেই, কোনো কারণ নেই—এটা কেমন বিচার?”আরেক নারী শ্রমিক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। এই চাকরির টাকায় সংসার চলে। এখন হঠাৎ করে চাকরি না থাকলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব?
আমাদের বাচ্চাদের খাওয়াবো কী?”শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, তাদের অনেকের বকেয়া বেতন ও ওভারটাইমের টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ঈদের পরপরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।মানববন্ধনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা বলেন, “এটি সুস্পষ্টভাবে শ্রম আইন লঙ্ঘন। কোনো শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
কিন্তু এখানে তা মানা হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অবিলম্বে শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।”তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করা হবে।
ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক খাতে এ ধরনের আকস্মিক ছাঁটাই শ্রমিকদের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং শিল্পখাতের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলে। তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে কঠোরভাবে শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে হলেও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত কোনো সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

