দৈনিক স্বাধীন সময় ডেস্ক |
30/3/2026
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সোমবার ভোর থেকে উত্তর ইসরায়েল এবং দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে তাদের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হামলায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলের ‘মিশমার আল-কারমেল’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভোর ৪টার দিকে একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের আল-আদাইসা শহর, কিরিয়াত শমোনা এবং আল মালিকিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানবাহনের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা এই অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিহত করতে এবং লেবাননের সীমান্ত রক্ষা করতে। হামলার ফলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা জনজীবনের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনারা উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহর এই ধারাবাহিক ও সুসংগঠিত রকেট হামলা ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক এলাকা কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে, এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে হিজবুল্লাহর হামলার কারণে ইসরায়েলের কিছু বসতি ও সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলারষণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সংঘাতের মধ্যে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা পূর্ণ মাত্রায় প্রয়োগ করছে। বিশেষ করে হাইফার শহরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ চালু রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে সীমান্ত এলাকায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

