জেলা প্রতিনিধি’ফেনী:
বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের সাংবাদিকদের সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর (রেজিঃ নং কুমিল্লা -১৫৫) বিতর্কিত নির্বাচন বন্ধ চেয়ে আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের রেজিষ্টার বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনের একাধিক সদস্য।
বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও রেজিষ্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স আবুল বাশার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী। সে বছর কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে। যার রেজিষ্টেশন নং কুমিল্লা ১৫৫। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সভাপতি আবদুল্যাহ আল মামুন প্রকাশ সিদ্দিক মামুন এককভাবে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এ নিয়ে সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান’সহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে সভাপতি ছিদ্দিক মামুনের দ্বন্ধ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে কোন সাধারণ সভা করা হয়নি এবং আর্থিক কোন হিসাব সদস্যদের জানানো হয়নি এবং রেজিষ্টার দপ্তরেও কোন রিটার্ন জমা দেয়া হয়নি। এর মধ্যেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।
রেজিষ্টার দপ্তরের অনুমতি ব্যতিরেকে এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত ১৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গঠন ও তপসিল ঘোষনা দেন সভাপতি সিদ্দিক মামুন। নির্বাচন কমিশনে তার নিকটাত্মীয় ও তারই পত্রিকার প্রতিনিধি মুনির হোসাইনকে প্রধান করা হয়েছে এবং তার পত্রিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ শারীদ ও ওবায়েদ উল্যাহকে সহকারি নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে।
এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই পুর্বের সাধারন সদস্যদের নাম বাদ দিয়ে তার অনুগত ও তারই পত্রিকার প্রতিনিধি সাজিয়ে ৫৫ জনের একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ৫৫ জনের মধ্যে ৩৫ জনই নতুন।
অপরদিকে প্রথমসারির জাতীয় দৈনিক গুলোর জেলা প্রতিনিধিদের আগ্রহ স্বত্বেও তাদের সদস্য করা হয়নি। এসব অনিয়মের তদন্ত ও ঘোষীত নির্বাচন বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কমিটির সদস্য আবরার হোসেন চৌধুরী, হাবিবুল্যাহ ও আবু তাহের’সহ ৬জন।
শুক্রবার(২৪ এপ্রিল) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ভোটার তালিকায় অধিকাংশ ভোটারকে চেনেন না বলে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন সাধারণ পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান।
অভিযোগকারী আবরার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ সিদ্দিক মামুন ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্রম দপ্তরের কোন নিদের্শনার তোয়াক্কা না করে এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটির কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই এক তরফা তার মনোনীত লোকদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন, তফসিল ঘোষণা ও ভোটের দিন ধার্য এবং ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। বিগত তিন বছর কমিটির আয় ব্যায়ের কোন হিসাব শ্রম দপ্তরে দেয়া হয়নি। ইচ্ছাকৃত কয়েকজনের সদস্য পদ বাতিল ও অসাংবাদিকদের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। যাদেরকে সাধারন সম্পাদকসহ নির্বাহীর কমিটির লোকজন চেনেন না।
‘সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী’র সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সভাপতির একক সিদ্ধান্তে গত তিনবছর কমিটি চলছে। এ নিয়ে কমিটির সকল কার্যক্রমে স্থবির। এরমধ্যেই তিনি একক সিদ্ধান্তে নিজ ঘরানার লোকদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে তপসিল ও ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। বিধি অনুযায়ী রেজিষ্টার দপ্তর ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নকে অবহিত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, বিএফইউজের বিধি অনুযায়ী বর্তমান সভাপতি সিদ্দিক মামুন একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হওয়ায় তিনি কোনভাবে ইউনিয়ন’র সদস্যপদে থাকতে পারেন না। তিনি এসব বিধি অনুুসরন করেন না, গায়ের জোরেই সংগঠন চালান।
এব্যাপারে জানতে চাইলে দৈনিক দিনকালের ফেনী জেলা প্রতিনিধি মোফিজুর রহমান বলেন,অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে গঠিত সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী ‘আমাদের মতাদর্শের কোন সংবাদকর্মীকে সদস্য পদ না দিয়ে ফ্যাসিস্টের দোসর এবং চা দোকানী, পান দোকানী, ইলেকট্রিশিয়ান,হোটেল ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকা অসাংবাদিকদের গোডাউনে পরিনত হয়েছে।
দৈনিক সংগ্রামের ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক একেএম আবদুর রহিম বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর ভোটার তালিকায় প্রকৃত ও পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের নাম দেখা যায়নি। যাদের নাম দেখা গেছে তাদের সাংবাদিকতার কোন স্বীকৃতি নেই।
কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও রেজিস্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স মো. আবুল বাশার বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর ৬সদস্যের সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

