ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
১৭ আগস্ট ২০২৬ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও
৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পুনরায় পরিষদে বহাল না করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
আজ সোমবার সকাল ১২ টায় ৯ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভকারীরা তাদের হাতে ধরা একটি ব্যানারের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। তারা বলেন ফ্যাসিস্ট চেয়ারম্যান ক্ষমতায় থাকার সময় নানাভাবে পরিষদের টাকা লুটপাট করে ভয়-ভীতি দেখে জমি দখল করে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেছেন। এবং পরিষদের সামনে দোকানগুলো আছে এগুলোর ভাড়ার টাকা ডিট সহ সব লুটপাট করে খেয়েছেন মোঃ নুরুল ইসলাম একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ: চেয়ারম্যান থাকাকালীন নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার: নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষের সাথে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
হত্যা মামলার অভিযোগ ও পলায়ন: সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, গত ২৪ শে আগস্ট ২০২৪ সালে এলাকায় এক গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় মোঃ নুরুল ইসলামকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। আইনকে ফাকি দিয় এখনো স্বচরিত্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার কারণ কি মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন যে, এই মামলার পর থেকে নুরুল ইসলাম গত দুই বছর ধরে আইন হাতেই আসছেনা
সমাবেশে বক্তব্য রাখা একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কতা বলেন, “যে ব্যক্তি দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বেচ্ছাচারী এবং হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পলাতক, তাকে কোনোভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে পুনরায় বহাল করার কথা ভাবাই যায় না। এমন ব্যক্তি পরিষদে ফিরে আসলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।” তারা নুরুল ইসলামকে যেকোনো মূল্যে পরিষদে বহাল করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, নুরুল ইসলাম পলাতক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আবার চেয়ারম্যান পদে ফিরে আসার জন্য রাজনৈতিক কৌশল বা ‘গুটি বাজি’ করছেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তারা এমন একজন ব্যক্তিকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেবেন না।
মানববন্ধনে উপস্থিত জনতার দাবি, পলাতক আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাকে কোনোভাবেই ইউনিয়ন পরিষদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসার সুযোগ না দেওয়া হোক।

