স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ নাঈম বিন রফিক, মংলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে আজ রবিবার মংলায় সর্বদলীয় সম্মিলিত নেতৃত্বের উদ্যোগে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও সফল হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই মংলার প্রধান প্রধান সড়ক, ট্রলার ঘাট, বাজার, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ভোর পাঁচটা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মংলা উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন এবং হরতাল-অবরোধ কার্যকর করেন। এতে সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এবং সারাদিন জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে।
আজকের বিক্ষোভ মিছিলে সর্বদলীয় নেতৃত্বের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মংলা উপজেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম মৃধা, সহ-সভাপতি ইউসুফ ইকবাল সাহেব, সেক্রেটারি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মংলা পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম সাহেব, পৌর সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম সাদী সাহেব উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেন। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মংলা পৌর শাখার সভাপতি মুহা. নাঈম বিন রফিক ও সেক্রেটারি আল-আমিন কাজী সহ ছাত্রনেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। উপজেলা শাখার নেতা এইচ.এম. ফারহাদ হোসেনসহ ইসলামী আন্দোলন ও ছাত্র আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মী সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত হরতাল-অবরোধ সফল করতে মাঠে ছিলেন।
এছাড়াও আজকের এই বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মংলা পৌর শাখার সভাপতি আলহাজ্ব জুলফিকার আলী সাহেব এবং বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মংলা উপজেলা ও পৌর শাখার নেতৃবৃন্দও সর্বাত্মকভাবে অংশগ্রহণ করে আন্দোলনে সমর্থন জানান। এর ফলে বিক্ষোভ কর্মসূচি সর্বদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আরও ব্যাপকতা লাভ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাগেরহাটের চারটি আসন পুনর্বহালের দাবিতে জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে। ভারতের অযৌক্তিক চাপ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কারণে জনগণের আসন নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এই আসন ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা আরও বলেন, মংলা-রামপালসহ কুমারখালী অঞ্চলের মানুষ সর্বদলীয় ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দিনব্যাপী খণ্ড খণ্ড মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। স্লোগানে স্লোগানে পুরো মংলা শহর মুখরিত হয়ে ওঠে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শহরে এক ভিন্ন চিত্রের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ জনগণ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে আসনের দাবিতে এক কণ্ঠে স্লোগান দেন।
সমাবেশ শেষে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন যে, বাগেরহাটের চার আসন পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।

